বিশেষ সংবাদদাতা:
চট্টগ্রাম জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত (কোভিড-১৯) রোগী শনাক্ত হয় ৩ এপ্রিল। এরপর ওই মাসের শেষে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত রোগী দাড়ায় ৭৩ জনে। সেখান থেকে করোনা আক্রান্ত বেড়ে এখন ৩৬৬৯ জনে দাড়িয়েছে। শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন থেকে পাওয়া তথ্য এটাই।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ মে থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় করোনা আক্রান্ত বেড়েছে ৩৫৯৬ জন। এরমধ্যে শুধুমাত্র মে মাসে আক্রান্ত হয়েছে ২৯১০ জন। গত ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৬৮৬ জন। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ৪৬৪ নমুনা পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে ১৩২ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। অথচ গোটা এপ্রিল মাসে করোনা আক্রান্ত ছিল ৭৩ জন।

একমাসে এত আক্রান্ত এবং পর্যায়ক্রমে তা বাড়ার কারণ সম্পর্কে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, শুরুতে করোনা সংক্রমণ থেকে বাচার মোক্ষম উপায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসন কঠোর ছিল। আক্রান্ত এলাকা লকডাউন করেছিল। অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আকাশপথ, জলপথসহ গণপরিবহণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে করোনা সংক্রমণ তুলনামূলক কম হয়েছিল।

পেটের দায়ে মানুষ যখন ঘর থেকে বাহির হওয়া শুরু করে সেই থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। এরমধ্যে বাণিজ্যনগরী হিসেবে চট্টগ্রামে রয়েছে অসংখ্য পোশাক ও কলকারখানা। এগুলো খোলার পর সেখানে শ্রমিকরা করোনা আক্রান্ত হতে থাকে।

এছাড়া মানুষকে বাচাতে গিয়ে ঘরে রাখা, তাদের কাছে খাবার-ওষুধ পৌছে দেওয়া, লকডাউন করতে গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও র‌্যাব বাহিনীর সদস্যরা করোনা আক্রান্ত হতে থাকে। চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক, সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে সাংবাদিক, ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা আক্রান্ত হতে থাকে।

এছাড়া দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখতে গিয়ে শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আক্রান্ত হতে থাকে। যা এখনো হচ্ছে এবং দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে মৃত্যুও। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৮৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন। প্রায় প্রতিদিন ৪-৫ জন করে করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যাচ্ছেন। করোনা উপসর্গ নিয়েও মারা যাচ্ছে অনেকে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করলে সামনের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এ নিয়ে আমরা চরম উদ্বিগ্ন।

সিভিল সার্জন বলেন, একদিকে করোনা আক্রান্ত বাড়ছে। অন্যদিকে তাদের চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সুবিধা চট্টগ্রামে এখনো তৈরী হয়নি। হাসপাতালে হাসপাতালে রয়েছে অক্সিজেন সংকট। যেটা করোনা রোগীর শ্বাসকষ্ঠে বেশি প্রয়োজন। তবে আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে আমরা সর্বাত্নক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সিভিল সার্জনের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এখনো বিআইটিআইডি, সিভাসু ও চমেক হাসপাতাল ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে। একটি ফিল্ড হাসপাতাল ও তিনটি সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় ৪২০টি শয্যা রয়েছে। সে তুলনায় আক্রান্ত ১০ গুণ বেশি। তবে নগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রামের বন্দর হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতাল, হলিক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও ইম্পেরিয়াল হাসপাতালকে অতি দ্রুত করোনা চিকিৎসার উপযোগী করে তুলতে হবে। নমুনার সংগ্রহ ও পরীক্ষার ল্যাবও বাড়ানো হচ্ছে। তবে চিকিৎসার চেয়েও সংক্রমণ থেকে বাচার উপায় অনুসরণ করার তাগিদ দেন সিভিল সার্জন।