বিশেষ সংবাদদাতা :

চট্টগ্রামে নিরবে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে নিখোঁজ ৮৫ জন রোগী। যাদের নিয়ে শঙ্কিত চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৩৫৩৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৭৯ জন মারা গেছে। বাকীরা  কোন না কোনভাবে চিকিৎসাধীন থাকলেও ৮৫ জন করোনা রোগীর কোন হদিস মিলছে না।

সিভিল সার্জনের ভাষ্য, নমুনা দেওয়ার সময় এরা হয় ভুল ঠিকানা ও ভুল ফোন নম্বর দিয়েছে। আবার এন্ট্রি করার সময় নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রেই এদের ফোন নম্বর ভুল বা ডিজিট কমিয়ে লেখা হয়েছে। সেরকম যদি হয়ে থাকে, তাহলে করোনা পজিটিভ এই লোকগুলোই জানতেই পারলো না তারা আক্রান্ত। সেক্ষেত্রে নিজের অজান্তেই তারা ভাইরাস ছড়িয়েছে। হয়তোবা কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করতে পারে।

তবে নগর পুলিশের বিশেষ শাখায় নিখোঁজ করোনা রোগীর তালিকা পাঠানো হয়েছে। নগর পুলিশের বিশেষ শাখা এই ৮৫ জন রোগীকে হন্যে হয়ে খুঁজলেও অসম্পূর্ণ ঠিকানা, ভুল নম্বর দেওয়া, লিস্টে দেওয়া নম্বরের ডিজিট কম থাকা সহ নানা কারণে তাদের কোনো হদিস বের করতে পারেনি।

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) বলছে, অসম্পূর্ণ ঠিকানা, ভুল নম্বর দেওয়া, লিস্টে দেওয়া নম্বরের ডিজিট কম থাকা সহ নানা কারণে এই ৮৫ জনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি তারা। এদের সাথে আর যোগাযোগ স্থাপনের কোন সম্ভাবনাও দেখছেন না তারা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ শাখার উপ কমিশনার আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, ‘অনেকগুলো নম্বরেই অসম্পূর্ণ ঠিকানা থাকে। যেগুলো আমরা লিস্টে দেওয়া নম্বর ট্র্যাক করে বের করি। কিন্তু এই নম্বরগুলো ট্র্যাক করাও সম্ভব হয়নি। কারণ হয় নম্বরগুলো বন্ধ, না হলে ১১ ডিজিটের জায়গায় ১০ ডিজিট দেওয়া। ফলে এগুলো ট্র্যাক করে ঠিকানা বের করা যায়নি।’

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা যা হয়েছে তা হলো এই লোকগুলো জানলোই না তারা করোনা পজিটিভ হয়েছে। আমরাও তাদের আইসোলেশনে নেওয়ার কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি।’

তিনি বলেন, রোগী নমুনা দেওয়ার সময় তথ্য প্রদানের ফরমে ভুল করতে পারেন। আবার সেই ফরমে তিনি ঠিক লিখলেও সেখান থেকে ইনপুট দেওয়ার সময় দায়িত্বরত ব্যক্তিও ভুল করতে পারেন। এ দুই ক্ষেত্রে সতর্কতা না বাড়ালে এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে। সুতরাং এই মুহূর্তে সচেতনতা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।