নিজস্ব প্রতিবেদক:
মার্চের শুরুর দিকের কথা। করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হয় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে। চট্টগ্রামে তখনও করোনার প্রকোপ তেমন একটা ছিল না। চট্টগ্রামে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ৩ এপ্রিল। সেখান থেকে গোটা মাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ায় ৭৩ জনে। কিন্তু মে মাসে এসে সেই সংখ্যা লালে লাল।

সিভিল সার্জনের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩৯৭ জন। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতের ফরাফলে করোনা শনাক্ত হয় আরও ২০৬ জন। এর আগের দিন করোনা শনাক্ত হয় ২১৫ জন। তারও একদিন আগে নারায়ণগঞ্জকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে চট্টগ্রাম।

সেই সাথে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। বুধবার পর্যন্ত এ সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭৮ জনে। প্রতিদিন মারা যাচ্ছে ৫-৭ জন করে। ফলে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নির্দেশনামতে রেড জোনের তালিকায় উঠে আসে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি এমন একটি তালিকা প্রণয়নের কথা জানান।

তিনি বলেন, সমীক্ষা অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরীর যেসব থানায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে সেসব থানাকে রেড জোন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৬টি থানার মধ্যে এমন ১২ থানাকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হট¯পট বা রেড জোন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এর বাইরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, সীতাকুন্ড ও মীরসরাই উপজেলাও হটস্পট হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। সে হিসেবে পুরো চট্টগ্রাম এখন রেড জোনের তালিকায়।

তিনি জানান, ১০০ এর উপরে যেসব থানায় করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে সেসব থানাকে রেড জোনে, ৯০ এর মধ্যে ইউলো জোনে, ১০ এর মধ্যে ব্লেক জোনে এবং আক্রান্ত শূন্য থাকা এলাকাকে গ্রিন জোনে রাখা হয়েছে। সে হিসেবে চট্টগ্রামের সবকটি থানা এলাকায় ১০ এর উপরে করোনা আক্রান্ত রয়েছে। ফলে চট্টগ্রামের ইয়েলো জোনের নিচে কোনো এলাকা নেই।

তালিকার তথ্যমতে, নগরীর ১৬ থানার মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে কোতোয়ালি থানা এলাকায়। এ সংখ্যা ৩২৪। ফলে রেড জোনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এলাকাটি। এরপরে ২১৫ জন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাঁচলাইশ থানা এলাকা।

এছাড়া ১৮৩ জন নিয়ে খুলশী এলাকা তৃতীয়, ১৬৮ জন নিয়ে পতেঙ্গা চতুর্থ, ১৬৭ জন নিয়ে হালিশহর পঞ্চম, ১৪১ জন নিয়ে ডবলমুরিং ষষ্ঠ, ১২৩ জন নিয়ে বন্দর এলাকা সপ্তম, ১১৪ জন নিয়ে পাহাড়তলী ৮ম, ১১২ জন নিয়ে ইপিজেড ৯ম, ১১১ জন নিয়ে চকবাজার ও আকবর শাহ থানা ১০ম, ১০৬ জন নিয়ে চান্দগাঁও ১১তম স্থানে রয়েছে।

আর ৯৯ জন নিয়ে বাকলিয়া ও বায়েজিদ এবং ৮৬ জন নিয়ে সদরঘাট থানা ইয়েলো জোনে রয়েছে। এছাড়া ঠিকানা অস¤পূর্ণ চট্টগ্রামে এমন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জন।

চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে গত ৩ এপ্রিল সর্ব প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তিনি চকবাজার থানার দামপাড়া মসজিদ গলির বাসিন্দা। এরপর পাহাড়তলী, দামপাড়া পুলিশ লাইন, কাট্টলি, চান্দগাঁও ও চকবাজারসহ সবকটি থানা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। বর্তমানে তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

সিটিএসবির উপ-কমিশনার আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর দামপাড়ায় ওই রোগীর বাসভবন লকডাউন করা হয়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ভবন ও কাঁচা ঘর লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ার কারণে এবং সিএমপির জনবল সংকটের কারণে ভবনগুলোতে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নিয়মিত মনিটরিং করে লকডাউনকৃত ভবন ও কাঁচা ঘরগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে।

সিটিএসবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৩৩৯৭ জন। তম্মধ্যে নগরীতে আক্রান্ত ২ হাজার ৪১৯ জন। এরমধ্যে সাধারণ নাগরিক, ডাক্তার, আইনজীবী ও সরকারি চাকরিজীবীর পাশাপাশি ১৬৮ জন আইন শৃংখলা বাহীনির সদস্য রয়েছেন। নগরীতে এ পর্যন্ত ৭৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তম্মধ্যে ৩ জন সিএমপির সদস্য।