বিশেষ প্রতিনিধি : 
দুইমাস পর সচল হলো চট্টগ্রাম। তবে সেই চিরচেনা পরিবেশে। সড়কে সড়কে যানজট, মানুষজট। গাড়িতে সীটভর্তি মানুষ। সবই আগের চিরচেনা রুপ। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম অফিসগুলোতে। সেখানে নেই সেবাপ্রার্থী-দর্শনার্থীদের অবাধ প্রবেশ। টেবিল-চেয়ার বসানো হয়েছে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে।

সোমবার এমন রুপে ছিল চট্টগ্রাম। যে রুপে আতঙ্কিত অনেকেই। কারণ যানবাহন চলাচলে মানা হচ্ছে কোন ম্বাস্থ্যবিধি। ভাড়া ৬০ ভাগের জায়গায় আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ বেশি। ফলে চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বাড়ল বলে অভিমত সচেতন নগরবাসীর।

নগরবাসীর তথ্যমতে, রোববার থেকেই চট্টগ্রামে খোলা হয়েছে সরকারি অফিস। তবে সোমবার করপোরেট অফিসগুলোও খুলেছে। খুলেছে কিছু কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চলছে গণপিরবহণ। চলছে ট্রেনও। ফলে নগরীর বিভিন্ন সড়কে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম।

দুইমাস পর রোববার সকাল ৭টায় যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম ছেড়েছে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন। এসময় রেল পুলিশ এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্টেশনে জটলা ঠেকাতে তৎপর ছিলেন। যাত্রীদেরও ট্রেনে বসানো হয়েছে নির্দিষ্ট দূরত্বে। সবার মুখে মাস্ক ছিল। কেউ কেউ হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়েও ট্রেনে উঠেন। ট্রেন ছাড়ার আগে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কার্যালয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারির টেবিলের মধ্যে অন্তঃত তিনফুট দূরত্ব রাখা হয়েছে। টেবিলের সামনে চেয়ারও রাখা হয়েছে দূরত্ব মেনে। সকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সিআরবি ভবনের মূল ফটক।

সাধারণ ছুটির মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকান্ড প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও রোববার থেকে বন্দরের সব বিভাগই পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান সচিব মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, আমাদের সব বিভাগেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে যারা বয়স্ক এবং অসুস্থ, তাদের অফিসে আসতে আমরা নিষেধ করেছি।

চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, সাধারণ ছুটির মধ্যেও রিলিফ কাজের জন্য আমাদের অনেককেই অফিসে আসতে হয়েছে। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২৪ ঘণ্টা চালু ছিল। রেভিনিউ শাখাও খুলে দেওয়া হয়েছে। সব বিভাগেই কাজ শুরু হয়েছে। তবে আমরা কাজ কখনই বন্ধ করিনি। সীমিত আকারে এতদিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাজ হয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, রোববার থেকে আমাদের অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সড়কে যানবাহন সীমিত হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। রিকশায় করে আসার মধ্যেও ঝুঁকি আছে। অনেক রিকশাচালকের মুখে মাস্ক নেই। অনেকে রিকশায় উঠছেন মাস্ক ছাড়াই।

সরকারি অফিসের বাইরে চট্টগ্রামের শিল্প কারখানাগুলোর কার্যালয়ও খুলতে শুরু করেছে। সব ধরনের পোশাক কারখানার বাইরে অধিকাংশ বড় কারখানাও ছুটির মধ্যে চালু ছিল। রোববার থেকে কারখানার প্রধান কার্যালয়েও কাজ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের (বিএসআরএম) এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের করপোরেট অফিস খুলেছে। আমাদের ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তিনদিন যাবে ৪০ শতাংশ স্টাফ। আর তিনদিন বাকি ৪০ শতাংশ। সেলস ডিপার্টমেন্ট আপাতত বন্ধ থাকবে। ভার্চুয়ালি কাজের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরে গণপরিবহণ চলাচলে সিএমপি ১৬ নির্দেশনা দিলেও তার অধিকাংশই মানা হচ্ছে না। সোমবার সকাল থেকে গণপরিবহণ সীমিত আকারে চললেও আগের মতো সীট ভর্তি যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। এমনকি দাড়িয়েও যাত্রী চলাচল করেছে। ভাড়া ৬০ শতাংশের পরিবর্তে দ্বিগুণ বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে।