দেশ সেরা শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। আমদানী বাণিজ্যই মূলত এ প্রতিষ্ঠানের। যার কল্যানে দেশ সেরা অর্থ-বিত্তের মালিকও প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা। আমদানীটা যেহেতু ভাল বুঝেন সেহেতু এবার আমদানী করলেন করোনাভাইরাসও। যা নিয়ে আসা হয়েছিল বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে।

চলতি মাসের মে মাসের শুরুর দিকে হয়েছিল এই বিয়ে অনুষ্ঠান। কিন্তু তাদের পরিবারে করোনাভাইরাসের দাপট শুরু হয় মে মাসের মাঝামাছি সময় থেকে। তাতে কুপোকাত এই শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বড় ভাই মোরশেদুল আলম। তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে মারা যান গত ২২ মে। পরেরদিন নমুনা পরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি করোনা পজেটিভ।

এরপর একের পর এক করোনা আক্রান্ত ধরা পড়ে এস আলম পরিবারের ৮ সদস্যের মাঝে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার এ পরিবারে করোনা পজেটিভ হন আরেক সদস্য। তিনি হলেন ইশফাক আরা জাহান রাফিকা। তিনি নিহত মোরশেদুল আলমের ছেলে মাহমুদুল আলম আকিবের স্ত্রী। সীতাকুণ্ড আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের মেয়ে।

জানা যায়, চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মেয়ে জেবা জামান চৌধুরীর সঙ্গে এস আলম পরিবারের আরেক সন্তান ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবুর ছেলে আতিকুল আলমের বাগদান সম্পন্ন হয়। নগরীির সার্সন রোডে মন্ত্রীর বাসভবনে ঘরোয়া এ বাগদান অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্য ও স্বজনসহ ৬০-৭০ জন উপস্থিত ছিলেন।

আর এ অনুষ্ঠানের পরপরই এস আলম পরিবারে ৯ সদস্য করোনা আক্রান্ত হন। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা শাহ কুতুব উদ্দিনও করোনায় আক্রান্ত হন। পরে ২০ মে রাজধানীর ধানমন্ডি আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

একদিন পর ২২ মে রাতে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে মারা যান এস আলমের বড় ভাই ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পরিচালক মোরশেদুল আলম।

এস আলম পরিবারে করোনায় আক্রান্ত সদস্যরা হলেন, সাইফুল আলম মাসুদের মা ৮৫ বছর বয়সী চেমন আরা বেগম, এস আলম গ্রুপের পরিচালক রাশেদুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু, পরিচালক মো. শহীদুল আলম, পরিচালক ওসমান গণি, পূত্রবধু ইশফাক আরা জাহান রাফিকাসহ মোট ৯ সদস্য।

তাদের মধ্যে ৭ জনকে ঢাকার ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যসূত্র জানিয়েছে।