নিজস্ব প্রতিবেদক :

সাকেরুল ইসলাম রাজু

দখলবাজি, চাঁদাবাজি, ইয়াবাসহ নানা রকম মাদক পাচার, সংরক্ষিত বনের কাঠ পাচার, অস্ত্র পাচার, বালু পাচার, পাহাড় কাটাসহ এমন কোন কাজ নেই তিনি জড়িত নন। এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাত জেগে কাটান। দিনে ঘুমান। এসব কাজে তার রয়েছে বিশাল সশস্ত্র বাহিনী। যাদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস করে না স্থানীয় লোকজন।

তিনি হচ্ছেন চট্টগ্রামের মীরসরাই পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাকেরুল ইসলাম রাজু। কাউন্সিলর হয়েও যিনি নিজেকে পরিচয় দেন মেয়র হিসেবে। অথচ তিনি কোন সময় মেয়র ছিলেন না। তার কথা, সবাই মেয়র ডাকেন তাই এ পরিচয় দিতে ভাল লাগে। তবে সন্ত্রাস ও অপরাধের গডফাদার হয়েও আগামি পৌর নির্বাচনে মীরসরাই পৌরসভা থেকে মেয়র প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাকেরুল ইসলাম রাজু নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালাতে রাজু এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন। যেখানে বসে তিনি পুরো মীরসরাইয়ে দখলবাজি, চাদাঁবাজি, ইয়াবাসহ নানারকম মাদক পাচার, সংরক্ষিত বনের কাঠ পাচার, অস্ত্র পাচার, পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলনসহ নানা অপরাধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন। এসব কাজে রয়েছে তার অনুসারী বিশাল সশস্ত্র বাহিনী। যারা নির্দেশমতে অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এই অপরাধ রাজ্যের প্রথম কিস্তি হিসেবে প্রকাশ করা হলো ফটিকছড়ি-মীরসরাই সড়কে বনবিভাগের কাঠবাহী ট্রাক থেকে প্রতিদিন লাখ টাকা চাঁদাবাজির তথ্য। পর্যায়ক্রমে তার অপরাধ রাজ্যের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবো আমরা।

এই প্রতিষ্ঠানে বসে অপরাধ রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফটিকছড়ি, মীরসরাই ও সীতাকুন্ড উপজেলায় বনবিভাগের বিপুল পরিমাণ সংরক্ষিত বন রয়েছে। যেখান থেকে বনবিভাগের মাধ্যমে প্রতিদিন সংরক্ষিত বন থেকে আহরিত মূল্যবান সেগুন, গামারী, আকশমণি, চাপালিশসহ নানা প্রজাতীর কাঠ ট্রাকে পরিবহণ করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

অকশনের মাধ্যমে কাঠ ব্যবসায়ীরা এসব কাঠ পরিবহণ করে নিয়ে যায়। এতে বনবিভাগের ছাড়পত্রসহ সকল প্রকার কাগজপত্র থাকলেও ফটিকছড়ি থেকে মীরসরাই আসার পথে রেললাইনের পাশে ব্র্যাক এলাকায় ট্রাক থামিয়ে মোটা অংকের চাঁদাবাজি করে সাকেরুল ইসলাম রাজুর অনুসারী ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী পরিচয়দানকারী সশস্ত্র ক্যাডাররা।

ভুক্তভোগী কাঠ ব্যবসায়ীরা জানান, ফটিকছড়ি-মীরসরাই সড়কে ব্র্যাক এলাকা একটি নির্জন এলাকা। ওই এলাকা রীতিমতো আমাদের জন্য আতঙ্কের। এ সড়ক দিয়ে কাঠ বাহী প্রতিটি ট্রাক থেকে সর্বনিম্ম ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় সন্ত্রাস ও অপরাধ রাজ্যের গডফাদার কাউন্সিলর রাজুর অনুসারীদের। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টি ট্রাক কাঠ পরিবহণ করা হয় এ সড়কে। সে হিসেবে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন তারা।

এছাড়া সংরক্ষিত বনের কাঠ কেটে পাচার করে তার অনুসারীরা সশস্ত্র দলীয় ক্যাডাররা। এমনকি পাহাড় কেটে মাটিও পাচার করা হয়। ফলে ওই এলাকায় পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। এসব বিষয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

ফটিকছড়ি এলাকার বনবিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মীরসরাই পৌরসভার কাউন্সিলর সাকেরুল ইসলাম রাজুর অপরাধ রাজ্য ফটিকছড়ি-মীরসরাই ও সীতাকুন্ড জুড়ে। এই তিন উপজেলার বনবিভাগের সংরক্ষিত বনের কাঠ, মাটি তার উপার্জনের মূল মাধ্যম। দলীয় পরিচয়ে তিনি বনবিভাগের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। তার অপরাধরাজ্য নিয়ে কেউ মুখ খোলার সাহসও করে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাউন্সিলর সাকেরুল ইসলাম রাজু বলেন, বনবিভাগের কাঠবাহী গড়ি থেকে আমি কোন চাঁদা নেয়না। এটা আপনাকে কেউ ভুল তথ্য দিয়েছে। তবে দলীয় লোকজন চাঁদা নিতে পারে। এ বিষয়ে কিছু অভিযোগ আমার কাছেও আছে। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাহাড়ে দলীয় লোকজন গাছ কাটে। তাদের পক্ষে কথা বলায় বনবিভাগ আমার বিরুদ্ধে এসব কথা বলছে।