বিশেষ প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম করোনা রোগীর চিকিৎসায় মিলছে না শয্যা। বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে অনেকের। বুধবার মুঠোফোনে আলাপকালে এমন তথ্য জানান চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি জানান, চট্টগ্রামে চারটি হাসপাতাল মিলে শয্যা রয়েছে মাত্র ২২০টি। আর ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে আক্রান্ত দাড়িয়েছে ৪১৭ জনে। ফলে হাসপাতালে শয্যা মিলছে না অনেক করোনা রোগীর। নিরুপায় হয়ে ১২৫ জনকে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

তবে শয্যা বাড়াতে নগরীর হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এছাড়া প্রয়োজনে নগরীর সবকটি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে বলেও মত প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি ল্যাবে ২৫ মার্চ থেকে করোনা শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ৩ এপ্রিল। ঠিক একমাস পর ৪ মে চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৯ জনে।

এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০০ সিটের আইসোলেশন ও ১০ সিটের আইসিইউ ওয়ার্ড, বিআইটিআইডি হাসপাতালে ৩০ সিটের আইসোলেশন ওয়াডর্, চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে ৫০ সিট ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ সিটের অবজারভেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়।

কিন্তু গত ৮ দিনে চট্টগ্রামে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায় আরো ৩৩৮ জন। সবমিলয়ে এ সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪১৭ জনে। ফলে এই সময়ে সবগুলো হাসপাতালে শয্যা ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে ১২৫ করোনা রোগীকে নিজ বাসায় আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন নিয়ম অনুযায়ী মৃদু উপসর্গ থাকা করোনা পজিটিভ রোগীদের বাসাতে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনা রোগীর শয্যা বাড়াতে চমেক হাসপাতালে ৩০ সিটের একটা অবজারভেশন ওয়ার্ডকে ১০০ সিটের আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হচ্ছে। এছাড়া হলিক্রিসেন্ট প্রস্তুত হচ্ছে। এরপরও যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা নগরীর সবকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবহার করবো।

তিনি আরও বলেন, মূলত দুটি কারণে চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। এরমধ্যে প্রথম কারণটি হচ্ছে আমরা টেস্টের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বাড়িয়েছি। তিনটি ল্যাবে এখন ৩০০-৪০০ নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। তাছাড়া গত ১০-১২ দিন ধরে সামাজিক দূরত্ব না মানার প্রবণতা বেড়েছে সবার মধ্যে। কাজেই সংক্রমণ কিছুটা ছড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে হু হু করে বাড়ছে করোনা পজিটিভ শনাক্তের সংখ্যা। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪১৭ জনে। এরমধ্যে মারা গেছে ২৩ জন করোনা রোগী। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৯ জন। বাকীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।