নিজস্ব প্রতিবেদক:
কারাবন্দী দেলোয়ার হোসেন সাঈদী পুত্রের সাথে গোপন বৈঠক করার অভিযোগে রকি বড়ুয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭ এর সদস্যরা। পায়ে আঘাত লাগায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোররাতে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আমেনা বেগম নামে তার এক নারী রক্ষিতা ও তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেই সাথে বিদেশি পিস্তল, মদের বোতল উদ্ধার করে। র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রকি বড়ুয়াকে নগরের পাঁচলাইশ এলাকার একটি বাসা থেকে মঙ্গলবার ভোর রাতে গ্রেপ্তার করেছি আমরা। একই অভিযানে তার আরও চার সহযোগি গ্রেপ্তার হয়েছে। এরমধ্যে একজন নারীও আছেন।

তিনি বলেন, র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে রকি বড়ুয়া তিনতলার ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিলেন। ছাদ থেকে পড়ে পায়ে ফ্রাকচার হয়ে গেছে। এখন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, রকি বড়ুয়ার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল ও মদ পাওয়া গেছে। সে যে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করে, সে স¤পর্কিত বিভিন্ন ডকুমেন্টস, ভান্তে সাজার গেরুয়া রঙের কাপড়সহ আরো অনেক কিছু পেয়েছি।

র‌্যাব-৭ এর অপারেশন অফিসার মো. মাশকুর রহমান বলেন, আমরা যখন তাকে ধরতে গিয়েছিলাম, সে একটা বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। পালানোর জন্য সে ছাদ থেকে নিচের সানশেডে লাফ দেওয়ার সময় পরে যায়। যে কারণে পায়ে আঘাত পায়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দেখা যায় যে, তার পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযানে রকি বড়ুয়ার সহযোগি একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি রকি বড়ুয়ার স্ত্রী নন, মুসলিম মেয়ে। আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তার নাম আমেনা বেগম।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল মধ্যরাতে রকি বড়ুয়ার বাড়ীতে ঢাকা থেকে এসে রাতভর গোপন বৈঠক করেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের শীর্ষ নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদী ও মাওলানা তারেক মনোয়ারসহ জামায়াতের অন্তত ১০/১২ জন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

এ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতেই গত ৩ মে বিবিবিলার বৌদ্ধ বিহারটি ভাঙচুর করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে উল্টো স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনটা দাবি করে ১০ মে বিকেল সাড়ে ৩টায় লোহাগাড়া সম্মিলিত নাগরিক সমাজ নামে একটি সংগঠন সাংবাদিক সম্মেলন করে।

সম্মেলনে ভয়ঙ্কর ধর্মব্যবসায়ী, ভন্ড, প্রতারক ও সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টিকারী রকি বড়ুয়ার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ করে তার গ্রেপ্তার দাবিতে।