নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামে করোনায় মৃত বেড়ে ২২ জনে দাড়িয়েছে। করোনার সর্বশেষ শিকার হলেন ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে সোমবার বিকেলে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসার পথে গাড়িতে এক ব্যাংককর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রব মঙ্গলবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওই নারীর বাড়ি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।

ডা. আব্দুর রব জানান, গত ২১ এপ্রিল নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই বৃদ্ধাকে। সেখান থেকেই তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ২৪ এপ্রিল ওই নারী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যান। ২৭ এপ্রিল বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর গত ২৮ এপ্রিল নারী চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন ওই নারী।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত চারজন করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২২ জন বলে জানান তিনি।

এদিকে সোমবার বিকেলে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গাড়িতে মৃত্যু হয়েছে। ওই ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রীও একই অসুখে ভুগছেন। পরিবারের ধারণা, তারা করোনায় আক্রান্ত। চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগে তার বাসা। তিনি এনসিসি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) ছিলেন।

মৃতের ভাই জানান, গত চারদিন ধরে তার ভাই জ্বরে ভুগছিলেন। সোমবার দুপুর থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার পরামর্শ দেন। পথে চলন্ত গাড়িতেই তিনি মারা যান।

তিনি আরও জানান, মৃতের স্ত্রীও কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। তাদের ধারণা তারা স্বামী-স্ত্রী করোনায় সংক্রমিত। তবে তাদের নমুনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।