স্থানীয় প্রতিনিধি, বাঁশখালী:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকার বিরুদ্ধে ত্রাণবিতরণে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি, আত্নসাতের নয়। মঙ্গলবার সকালে এমন তথ্য জানান স্থানীয় সরকার বিভাগ, চট্টগ্রামের উপ পরিচালক ইয়াসমিন পারভিন তিবরীজি।

তিনি জানান, সোমবার বিকেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা বাঁশখালী ইউএনও মোমেনা আক্তার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিকট এমন একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন, যা মঙ্গলবার সকালে আমরা পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

জানা যায়, ২৭ এপ্রিল বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকা ৩০ জন শ্রমজীবীর নাম মাস্টার রোলে থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে ত্রাণ না দিয়ে সেই ত্রাণ চৌকিদারের টিপসইতে আত্নসাত করেছেন-এমন অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক এবং ইউএনও বরাবরে অভিযোগ দেন স্থানীয় চার বাসিন্দা।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী, অভিযোগকারী, অভিযুক্ত এবং ইউপি মেম্বারদের সাথে কথা বলে ১০ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের বরাবরে জমা দেন ইউএনও মোমেনা আক্তার।

ইউএনও মোমেনা আক্তার এ প্রসঙ্গে বলেন, ত্রাণবিতরণে চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন খোকার অনিয়মের বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। তিনটি পর্যায়ে ৫০৮ জনকে তিনি সরকারি ত্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু মাস্টার রোলে থাকা ১৬ জনকে বাদ দিয়ে তালিকার বাইরের ১৬ জনকে ত্রাণ দিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে আমরা গড়মিল খুঁজে পেয়েছি। এটাকে আত্নসাত বলা যাবে না। অনিয়ম বলা যাবে। তিনি আত্নসাত করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন তা নয়, মাস্টার রোলের বাইরে গিয়ে অন্যদের দিয়ে দিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধনপুর ইউনিয়নের ৯ ইউপি সদস্যের মধ্যে ৬ ইউপি সদস্য তাদের এলাকায় সর্বমোট ১৮ জন শ্রমজীবী (মাস্টার রোলে যাদের নাম ছিল) ত্রাণ পাননি উল্লেখ করে গত ৫ মে ইউএনও মোমেনা আক্তারের কাছে লিখিতভাবে তথ্যপ্রমাণসহ সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এছাড়া মাস্টাররোলে দেওয়া স্বাক্ষরটি তাদের নয় দাবি করে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনওর কাছে অনুরোধও জানান তারা। কিন্তু এসব সাক্ষ্য আমলে না নিয়ে নিজের মতো করে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন ইউএনও মোমেনা আক্তার। তিনি চেয়ারম্যানকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।

ইউপি মেম্বারদের লিখিত সাক্ষ্য প্রদান স¤পর্কে জানতে চাইলে ইউএনও মোমেনা আক্তার বলেন, যেসব মেম্বার লিখিত দিয়েছেন তারাই আবার দিনশেষে জানাচ্ছেন তাদের লোকজন ত্রাণ পেয়েছে। তাহলে আমি কোনটা সঠিক বলে ধরবো?