নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপে প্রথমবারের মত করোনা শনাক্ত হয়েছে এক যুবকের। তার বাড়ি উপজেলা সদর থেকে ৯ মাইল দুরে গাছুয়া ইউনিয়নে। শনিবার রাতে চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে তার করোনা শনাক্ত হয়। আর এই খবর পেয়েই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ওই যুবক।

রবিবার সকালে আইসোলেশনে পাঠানো হয় তাকে। এ সময় মুঠোফোনে তিনি বলেন, চারদিন আগেই হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে রিপোর্ট নেেেগটিভ। আর এরমধ্যে বদলে গেছে রিপোট, বলা হচ্ছে পজেটিভ।

তিনি বলেন, আমি যদি করোনা আক্রান্ত হই, তাহলে সন্দ্বীপের সবাই আক্রান্ত। কারণ গত চারমাসে কখনোই আমি সন্দ্বীপের বাইরে যাইনি। লকডাউন শুরুর পর ঘর থেকেও বের হয়নি, গ্রামের বাইরেও যাইনি।

ওই যুবক জানান, প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে নমুনা সংগ্রহ করতে এলাকায় একটি গাড়ি আসে। জ্বর থাকায় সেখানে নিজের নমুনা দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনদিন পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন করে জানানো হয়, নমুনা নেগেটিভ। অথচ শনিবার রাত ১০টায় বিআইটিআইডি ল্যাব থেকে বলা হচ্ছে পজেটিভ। আমি মনে করি এই রিপোর্ট ভুল।’

এ বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম বলেন, গত ২৫ এপ্রিল আমরা ওই রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাঠায়। শনিবার রাতে তার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। এখন তিনি যেটি দাবি করছেন সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

ডা. ফজলুল করিম বলেন, রোগীর বাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দুরে গাছুয়া ইউনিয়নে। রাতেই রোগীকে আলাদা করা হয়েছে। লকডাউন করা হয়েছে তার বাড়ি। সে এখন আইসোলেশনে চট্টগ্রামের পথে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি জানান, শনিবার চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি ল্যাবে ১৭৭টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। এতে চট্টগ্রামের তিন নারী-পুরুষের করোনা শনাক্ত হয়। এদের একজন সন্দ্বীপের যুবক। তার বয়স ২৪। তার বাবা স্থানীয় সাবেক জনপ্রতিনিধি।

অপরজন হলেন নারী। সে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী জলদাস পাড়ার বাসিন্দা। তার বয়স ৪৫। সে উপজেলার এক সরকারী কর্মকর্তার বাসায় কাজ করেন। আরেকজনও নারী। সে চন্দনাইশের বাসিন্দা। তার বয়স ১৫। এছাড়া চট্টগ্রামের সিভাসু ল্যাবে ৯০টি নমুনা পরীক্ষা হয়। এতে হাতিয়ার ২, নোয়াখালীর এক ও লক্ষ্মীপুরের ৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

সিভিল সার্জন বলেন, চট্টগ্রামে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় করোনা শনাক্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ৮১। এরমধ্যে এক শিশু, দুই বৃদ্ধ ও দুই নারীসহ মোট ছয়জন মারা গেছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২০ জন। ৫৫ জন আইসোলেশনে ভর্তি আছেন।