নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম মহানগরের রাহাত্তারপুল এলাকায় করোনা শনাক্ত হওয়ার খবর পেয়ে এক নারী আত্নগোপন করেছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। ফলে তার খোঁজ মিলছে না। তার বাড়ি লকডাউন করতে গিয়েও বিপাকে পড়েছেন পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা।
শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে নতুন করে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যসহ তিনজনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পুরাতন একজনের শরীরে দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়। চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। আর নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ওই নারীও রয়েছেন।
তিনি নগরীর বাকলিয়া থানাধীন রাহাত্তারপুল আমান আলী রোড এলাকায় থাকেন। তার বয়স ৩৪ বছর। অন্য একজন হলেন লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ার বাসেক পাড়ার ৫১ বছরের ব্যক্তি। তার স্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক।
অপরজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবস্থিত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমইএইচ) চিকিৎসাধীন। তার বয় ৫৫ বছর। খুলশীর রেলওয়ে কলোনিতে থাকেন তিনি। সাউথ ইস্ট ব্যাংকের খাতুনগ›জ শাখায় কর্মরত রয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফহলে রাব্বি শনিবার সকালে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানার পর ওই নারী মোবাইলটি বন্ধ করে দিয়ে আত্নগোপনে চলে গেছে। তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন জানান, সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে রাহাত্তারপুল আমান আলী রোডের ৩৪ বছর বয়সী এক নারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে। তবে বিস্তারিত ঠিকানা দেয়া হয়নি। ওই নারীর একটি মোবাইল নাম্বার দেয়া হলেও সেটি বন্ধ রয়েছে। ওই রোগীর নামের সাথে যাদের মিল রয়েছে তাদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে।
ওসি জানান, করোনা পজিটিভ খবর পেতেই মুঠোফোন বন্ধ করে রীতিমতো আত্নগোপনে চলে গেছেন চট্টগ্রাম নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার ওই নারী। নারীর দেওয়া মুঠোফোন নম্বর ছাড়া বাড়তি কোনো তথ্য না থাকায় প্রশাসন বাড়ি লকডাউন করতে গিয়েও বিপাকে পড়ে যায়।
সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, ওই নারীর করোনা শনাক্তকরণের জন্য গত ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিআইটিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়। দুইদিন পর ১ মে নমুনা পরীক্ষায় ওই রোগীর করোনা পজিটিভ আসে।