নিজস্ব প্রতিবেদক:
পুলিশ কনস্টেবলের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর চট্টগ্রামে এবার একটি থানার ব্যারাক লকডাউন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে ব্যারাকে ওই পুলিশ কনস্টেবলের সংস্পর্শে আসা সকল পুলিশ সদস্যদের।
শুক্রবার সকালে এমন তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি জানান, বৃহ¯পতিবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত বিআইটিআইডির ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে নগরীর খুলশী থানার ওই পুলিশ কনস্টেবলের করোনা শনাক্ত হয়। তাকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে ১২ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
সিভিল সার্জন জানান, বৃহস্পতিবার বিআইটিআইডিতে ১৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রামে একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) ল্যাবে ৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় কারও করোনা শনাক্ত হয়নি।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (বিশেষ শাখা) মো. আব্দুল ওয়ারিশ খান বলেন, ২৮ বছর বয়সী পুলিশ কনস্টেবল খুলশী থানার ব্যারাকে থাকতেন। সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ব্যারাকটি লকডাউন করা হয়েছে। সেখানে তার সঙ্গে আরও যারা থাকতেন, তাদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, চট্টগ্রামে আক্রান্ত ১২ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে ১১ জনই সিএমপিতে কর্মরত। এদের মধ্যে ৮ জন ট্রাফিক বিভাগের, একজন এসএএফ শাখায়, একজন অতিরিক্ত কমিশনারের অফিস সহকারী এবং সর্বশেষ একজন খুলশী থানায় কর্মরত। এছাড়া র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনে কর্মরত পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শকও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ থেকে বিআইটিআইডিতে এবং ২৫ এপ্রিল থেকে সিভাসুতে করোনা শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। দুই ল্যাবে এ পর্যন্ত ৩২১২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এদের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২৩ জনের। আক্রান্তদের ৭০ জন চট্টগ্রাম জেলার, লক্ষ্মীপুরের ৪০ জন, নোয়াখালীর ৭ জন, বান্দরবানের ৩ জন ও ফেনীর ৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। মারা গেছে ৬ জন।