নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৪ দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পর গত ২৯ এপ্রিল বাড়ি ফিরেছেন সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. মনির হোসেন। কিন্তু তার মনে ভীষণ কষ্ট।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউনে কোটি মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌছানোর গল্প শুনেছি। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত ২৮-৩০ জন রোগীর খাবার ও পানি দিতে পারেনি ঠিকমত।

হাসপাতালে অবস্থানকালীন সময়ে খাবার নিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মনির। তিনি বলেন, ১৪ দিনে মিলে শুধুমাত্র একবার ২০০ গ্রামের একটি পানির বোতল দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে শুভার্থীদের মাধ্যমে পানি সংগ্রহ করে পান করেছি। পানি চাইলে, তারা পানির সঙ্কটে রয়েছেন বলে জানান। কী অদ্ভুদ!

মনির হোসেন বলেন, দু‘বেলা খাবার দেওয়া হলেও রোজার দিনে সেহেরী ও ইফতারের কোনো ব্যবস্থাই করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপায়ন্তর না দেখে দুপুরের খাবার দিয়ে ইফতার আর রাতের খাবার দিয়ে সেহেরী সেরেছি। শুরুর দু‘দিন খেজুর খেয়েই রোজা রেখেছি আমি।

মনির জানান, খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের কর্মী সুফিনা বলেছেন সেহেরী আর ইফতারের জন্য সরকার কোনো বরাদ্দ দেয়নি। তাই তারা দিতে পারছেন না। খাবার ও পানির কষ্টের কথা জানালেন একই সাথে করোনা জয় করে বাড়ি ফেরা এনাম ও রোমন।

একই কথা জানালেন নগরীর সুপারশপ বাস্কেটের কর্মী জাহেদুল হক, নগরীর শাপলা আবাসিকে শনাক্ত হওয়া নারী করোনা রোগী হাসিনা বেগম, সিডিএ মার্কেট এলাকায় শনাক্ত হওয়া লোহা ব্যবসায়ী মো. কামাল উদ্দিনও।

তবে খাওয়া-দাওয়ার দূরবস্থার কথা বললেও তারা কর্তব্যরত ডাক্তার ও চিকিৎসাকর্মীদের আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, দায়িত্বরত ডাক্তার ও চিকিৎসাকর্মীদের আন্তরিকতার কথা না বললে নয়, তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছি।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ এ প্রসঙ্গে বলেন, খাবারের জন্য প্রতিদিন জনপ্রতি ৩০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এতে খাবারের কষ্ট হওয়ার কথা না। তাছাড়া পানির জন্য ওয়াটার পিউরিফিকেশন ডিভাইস বসিয়েছি। পানি সংকট কেন হবে?

সেহেরী ও ইফতারের ব্যবস্থা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোগী বললে অবশ্যই সেহেরী ও ইফতারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এতে বরাদ্দের অতিরিক্ত প্রয়োজন আছে বলেও মনে হচ্ছে না। খাবার ও পানির কষ্টের অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানান ডা. অসীম কুমার নাথ।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত ৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৬ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ জন। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন ২৮ জন। বাকীরা চট্টগ্রামের বিআইটিআইটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।