নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনার সংক্রমণ থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর মানুষকে বাচাতে পুলিশের ভুমিকা নজিরবিহীন। আর এই কাজটি করতে গিয়ে একের পর এক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে পুলিশ। এরপরও থেমে নেই। ঝুঁকি জেনেও নানা পর্যায়ে নানাভাবে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।
বুধবার রাতে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষায় নগরীর এক পুলিশ সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সেই সাথে চট্টগ্রামের আরো ৩, লক্ষীপুর ৬, নোয়াখালী ৩ ও ফেনীতে ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর এ নিয়ে সিএমপির ১০ পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি জানান, বুধবার বিআইটিআইডিতে ১১৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ফলাফল পজেটিভ আসে মোট ৫ জনের। এদের মধ্যে চারজন চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা, একজন ফেনীর বাসিন্দা।
সিভিল সার্জন জানান, চট্টগ্রামে আক্রান্তদের মধ্যে একজন সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের সদস্য, কালুশাহ নগর এলাকার একজন, ইপিজেড এলাকার বিএসসি মেরিন ওয়ার্কশপের একজন ও নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির একজন রয়েছেন। চারজনই পুরুষ।
এছাড়া নতুন স্থাপিত চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে পরীক্ষা হয় ৯৯টি নমুনা। এতে শনাক্ত হয় ৯ জন। এদের মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলার ৬ জন ও নোয়াখালীর ৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়।
এর আগে মঙ্গলবার এক পুলিশ সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়। তিনিও নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্স ও বিএনএস পতেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া ওইদিন আরো ৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এ নিয়ে ১০ পুলিশ সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬৯ জনে। অবশ্যই এর বাইরে দু‘জন অন্য জেলায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বিশেষ শাখা) মো. আব্দুল ওয়ারিশ খান জানান, নগরীতে পাঁচ জন ট্রাফিক সদস্য, একজন নায়েক, তিন জন কনস্টেবল ও একজন এএসআই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ১০ জন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর বাইরে একজন র‌্যাব সদস্যও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, নগরীর বাসিন্দাদের সুরক্ষায় সিএমপির সকল স্তরের পুলিশ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। লকডাউনে সামাজিত দুরত্ব ও শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এ কাজ করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ঝুঁকি জেনেও থেমে নেই পুলিশ সদস্যরা। মানুষকে ঘরে রাখা, অসহায়-দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাবার পৌছে দেওয়া, বাজার পৌছে দেওয়া সবকিছুই নিরলসভাবে পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, চট্টগ্রামে আক্রান্তের মধ্যে মহানগরীতে ৪২ জন, সাতকানিয়ায় ১৫ জন, সীতাকুন্ডে ২ জন, বোয়ালখালীতে ২ জন, পটিয়ায় ২ জন, আনোয়ারায় ১ জন, চন্দনাইশে ১ জন, ফটিকছড়িতে ১ জন ও মিরসরাইয়ের ২ জন রয়েছেন। ৬ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। আর সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১৬ জন।