নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামে র‌্যাব সদস্য ও চিকিৎসকসহ করোনায় নতুন আক্রান্ত আরও ৯ জন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট আক্রান্ত বেড়ে দাড়ালো ৬৪ জনে। আক্রান্ত র‌্যাব সদস্যকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এর ১৪ দিন আগে থেকে তিনি কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে র‌্যাব-৭-এর গণমাধ্যম বিষয়ক কর্মকর্তা এএসপি মাহমুদুল হাসান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমাদের একজন সদস্যের শুকনা কাশি ও গলা ব্যথা থাকায় ২১ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ২৭ এপ্রিল সোমাবর রাতে ফলাফল পজিটিভ আসে।

তিনি বলেন, গত ১৪ দিন ধরে ওই র‌্যাব সদস্যকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। এখন থেকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রাখা হবে। যারা তার কাছাকাছি ছিল তাদের সকলের করোনা টেস্ট করানোর জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

আর এই র‌্যাব সদস্যসহ চট্টগ্রামে নতুন করে আরও ৯ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪৪ বছর বয়সী এক সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। সোমবার রাতে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানান চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি জানান, সোমবার বিআইটিআইডিতে ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রামের ১১ জন ও লক্ষীপুরের একজন। চট্টগ্রামের ৯ জনের মধ্যে ৭ জন নগরের, দুইজন সাতকানিয়ার, একজন বোয়ালখালীর ও একজন মিরসরাইয়ের বাসিন্দা। এদের মধ্যে সাতকানিয়ার দুইজন পুরনো রোগী। সে হিসেবে চট্টগ্রামে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯ জন।

চট্টগ্রামে আক্রান্তদের মধ্যে র‌্যাব-৭ এর ৪৫ বছরের পুরুষ সদস্য, চমেক হাসপাতালের ৪৪ বছরের সহকারী অধ্যাপক, দক্ষিণ হালিশহরের ৪৮ বছরের পুরুষ, বিএমএ লিংক রোডের ৬৯ বছরের পুরুষ, দামপাড়া ৩৮ বছরের পুরুষ পুলিশ সদস্য, পাহাড়তলীর ৭০ বছরের পুরুষ, মিরসরাইয়ের ২৩ বছরের পুরুষ, মা ও শিশু হাসপাতালের ৬৫ বছরের একজন নারী, বোয়ালখালীর ৪৮ বছরের পুরুষ, জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাতকানিয়ার ৫২ ও ১৯ বছরের পুরুষ রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বিআইটিআইডিতে এখন পর্যন্ত ২৬৪২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় করোনায় আক্রান্ত বেড়ে দাড়িয়েছে ৬৪ জনে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের ৩৯ জন, সাতকানিয়ার ১৫ জন, সীতাকুন্ডের ২ জন, বোয়ালখালীর ২ জন, পটিয়ার ২ জন, আনোয়ারার ১ জন, চন্দনাইশের ১ জন, ফটিকছড়ির ১ জন ও মিরসরাইয়ের ২ জন রয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে শনাক্ত করোনা রোগীদের মধ্যে পাঁচজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১২ জন।