নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনার প্রাদুর্ভাবের এই দু:সময়ে ফটিকছড়িবাসীর পাশে নেই আওয়ামী লীগ নেতা সাদাত আনোয়ার সাদী। দীর্ঘ এক মাস পর রোববার বিকেলে শুধুমাত্র পুলিশকে খুশি করার জন্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করলেন তিনি। এর আগেও পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা সামগ্রী দেন তিনি।

এমন মন্তব্য করলেন খোদ ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা জানান, সাদাত আনোয়ার সাদী এমন একজন সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি, যিনি বিনিময় ছাড়া রাজনীতি বুঝেন না। তিনি দলীয় পদ-পদবী পাওয়ার জন্য অবাধে খরচ করেন।

নির্বাচন আসলে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হতে দু‘হাত উজাড় করে দান করেন। কিন্তু কোন দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকেন না তিনি। তবে রাজনীতির স্বার্থে প্রশাসনকে পূঁজা দিতে ভুল করেন না তিনি।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, করোনার সংক্রমণ রোধে দেশে লকডাউন শুরুর পর ফটিকছড়ি উপজেলার সর্বত্র পর্যায়ক্রমে অভাব-অনটন শুরু হয়। হতদরিদ্র পরিবারগুলো কর্মহীন হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিটি ঘরে ঘরে খাদ্যভাব দেখা দেয়। যা মেটাতে ফটিকছড়ি সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ আওয়ামী লীগ নেতারা প্রতিদিন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেও দেখা নেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইস্টার্ন রিফাইনারী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদাত আনোয়ার সাদীর। অথচ তিনি একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ।

তবে রাজনীতির স্বার্থে সুযোগ বুঝে তিনি খরচও করেন। আবার দানও করেন। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচন আসলে প্রার্থী হওয়ার জন্য অবাধে খরচ করেন। নেতাকর্মীদের কাছে টানতে খাওয়ান। গরীব-দু:খী মানুষের মাঝে দানও করেন। দলীয় পদ-পদবী বাগিয়ে নিতেও টাকা উড়ান দু‘হাতে। এরপর তাঁর দেখা মেলে না আর। তবে প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক রাখেন তিনি। এই করোনাকালেও সেটা বজায় রেখেছেন।

দীর্ঘ এক মাসেও ফটিকছড়ি উপজেলার জনসাধারণের পাশে এক মুঠো খাবার নিয়ে আসেননি তিনি। তবে রোববার বিকেলে পুলিশ প্রশাসনকে খুশি করতে তিনি বিতরণ করেছেন পিপিই, সেফটি চশমা, হ্যান্ড সেনিটাইজার, ডেটল লিকুইড, জীবাণুনাশক ঔষধ, স্প্রে মেশিনসহ বেশ কিছু সুরক্ষা সামগ্রী। যা দেখে ক্ষোভে ফুসঁছে ফটিকছড়ির জনসাধারণ।

এ বিষয়ে জানতে অনলাইন নিউজ পোর্টাল শুভ চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে সাদাত আনোয়ার সাদীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে জনগণের পাশে না থাকার বিষয়ে সত্যতা যাচাই ও তাঁর মতামত প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।