নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামে ত্রাণ চাওয়ায় নুরজাহান বেগম নামে ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে লাথি এবং ৪৫ বছর বয়সী অসহায় এক নারীকে চর-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে।

নগরীর ২৬নং উত্তর হালিশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম বৃদ্ধাকে এবং আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য কুনছুমা আকতারের স্বামী আবদুল আজিজ অসহায় ওই নারীকে চড়-থাপ্পড় মারেন।

এ ঘটনায় ওই নারী রবিবার রাতে আনোয়ারা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আর লাথি খেয়ে রোববার বিকেলে ওই বৃদ্ধা স্থানীয় লোকজনকে কেঁদে কেঁদে বিষয়টি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, রোববার দুপুরে বৃষ্টিতে ভিজেই স্থানীয় নারী-পুরুষরা নগরীর ২৬নং হালিশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে ত্রাণ সামগ্রীর জন্য যান। তাদের মধ্যে ছিলেন বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমও। কিন্তু কাউন্সিলরের অনুসারী নাসির তাকে ত্রাণ না দিয়ে উল্টো গলা ধাক্কা ও লাথি মেরে বের করে দেন।

এ বিষয়ে ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম বলেন, লাথি মারার ঘটনা ঘটেনি, তবে মারতে চেয়েছিল।

আমাদের আনোয়ারা প্রতিনিধি এনামুল হক নাবিদ জানান, ত্রাণ চাইতে গিয়ে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য কুনছুমা আকতারের স্বামী আবদুল আজিজ চড়-থাপ্পড় মারেন অসহায় এক নারীকে। ওই নারীর নামও কুনছুমা বেগম (৪৫)। তিনি বৈরাগ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কুলাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় ওই ইউপি সদস্য ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে রোববার রাতে আনোয়ারা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মুছা জানান, করোনাভাইরাসে চরম অর্থসংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছেন কুনছুমা বেগম। এ পর্যন্ত কোনো সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। এমতাবস্থায় বাধ্য হয়ে ত্রাণের জন্য যান স্থানীয় মহিলা মেম্বারের কাছে। তিনি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ত্রাণ না পেয়ে তালিকায় নাম নেই কেন জানতে চান মহিলা মেম্বারের কাছে। এ সময় চরম রেগে গিয়ে মহিলা মেম্বারের স্বামী ওই অসহায় মহিলাটিকে চড়-থাপ্পড় মেরে বের করে দেন।

সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য কুনছুমা আকতার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। এ সময় এই মহিলাটি এসে ত্রাণের জন্য আমার সাথে রাগারাগী করতে থাকেন। তখন আমি তাকে বলি এই পর্যন্ত তোমাকে ২ বার ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এই কথা বলাতে সে চেঁচামেচি করছিল। এবং আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তখন আমার স্বামী এসে ক্ষোভে তাকে একটি থাপ্পড় মারেন।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, ত্রাণ চাইতে গিয়ে মারধরের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।