নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বিএমএ নেতা ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর বাদানুবাদে সরগরম চট্টগ্রাম। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকে মন্তব্য করছেন, এই বাদানুবাদ দলের জন্য যেমন ভাল কিছু বয়ে আনবে না, তেমনি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায়ও বিরুপ প্রভাব পড়বে। মন্তব্যকারীদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক স¤পাদক ও বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ স¤পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী সম্প্রতি এন-৯৫ মাস্ক ও গগলেসের নামে চশমা বিতরণসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়ায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশের চিকিৎসকরা করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন-এমন তথ্য দেন গণমাধ্যমে।

যার কড়া সমালোচনা করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক স¤পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গত ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আমাদের দলের অনেক পদধারী সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। ওই পেশাজীবী নেতা ওটা নাই, এটা নাই বলে ভাষণ দিচ্ছেন। তিনি ডাক্তারদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। দলের পদে থেকে কিভাবে কথা বলতে হয়, সেটি ভাবা উচিত। এসময় তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন নওফেল।

শিক্ষা উপমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেন, কে হঠাৎ করে পদ-পদবি পেয়েছে জনগণ জানে, আমরা যখন এরশাদবিরোধী আন্দোলন আর চারদলীয় জোটের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি তখন অনেকে ফিডারে করে দুধ খেতেন। আমি কারো করুণায় পেশাজীবী এই পদে আসি নাই, ১৪০০ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে এই পদে এসেছি। দলীয় পদ যোগ্যতা বলে জননেত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন, পিতৃ পরিচয়ে নয়।

ফয়সল ইকবাল লিখেন, যাহা সত্য চিকিৎসকদের স্বার্থে তাহাই আমি বলেছি, ভবিষ্যতেও বলব, চিকিৎসকরা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন চিকিৎসকদের স্বার্থের কথা বলার জন্য। দুর্নীতিবাজ যারা এই সরবরাহ চেইনের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বলেছি, সরকারের বিরুদ্ধে নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পিপিই, মাস্ক এর দুর্নীতির বিরুদ্বে অবস্থান নিয়েছেন, সেখানে আপনার বক্তব্য প্রকারন্তরে দুর্নীতিবাজদের পক্ষেই গেছে, মনে হচ্ছে এই সরবরাহ চেইনের সাথে আপনারাও জড়িত? যেখানে নিন্মমানের পিপিই, মাস্ক সরবরাহ করা এবং জেনুইন এন-৯৫ মাস্ক না দেয়ার কারণেই ২৩১ জন চিকিৎসকসহ ৫০০-এর মত চিকিৎসা-সেবাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

ডা. ফয়সল ইকবাল লিখেন, সম্মুখযুদ্বে আমরাই আছি, আপনি নয়। আমার চিকিৎসক ভাইদের থাকা খাওয়ার জন্য কি দিয়েছেন? কোথায় থাকছেন, কি খাচ্ছেন খবর রেখেছেন? রাখেননি। রেখেছেন দুই জন জনপ্রতিনিধি একজন আ জ ম নাছির উদ্দিন, আর একজন এমপি ওয়াসিকা আপা। এখনো তাদের দুজন আর দুজন দানবীর ব্যবসায়ীর আর্থিক সহায়তায কোয়ারান্টাইনে থাকা চিকিৎসা সেবাকর্মীদের খাওয়া-দাওয়া চলছে। যা আমি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

তিনি আরও লিখেন, ৯১-৯২ সালে জোট সরকারের আমলে রক্ত আমার শরীর থেকে ঝরেছে, আপনার শরীর থেকে নয়। আমাদের রক্তের উপর দিয়ে এন-৯৫ মাস্ক পড়ে সরকারি গাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পতাকা লাগিয়ে। যদি পারেন চট্টগ্রমের চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবা কর্মীদের জন্য মানসম্মত পিপিই ও এন-৯৫ মাস্কসহ অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা করেন।