ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : নববধু কেয়া খাতুন (১৬)। কিন্তু বিয়ের পর প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায় সে। নিখোঁজের ১৭ দিন পর তার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রীলোচাঁদপুর গ্রামের মাঠ থেকে কাপড় দিয়ে বাঁধা অবস্থায় কেয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।

তবে পুলিশ বলছে লাশটি আসলেই মাদ্রাসা ছাত্রী কেয়ার কিনা তা ডিএনএ টেষ্ট ছাড়া সনাক্ত করা যাচ্ছে না। কেয়া বালিয়াডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে ত্রীলোচাঁদপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে ও একই উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মাইক্রো চালক সাবজাল হোসেনের নববধু।

এদিকে ওই ছাত্রীর দাদা মোশাররফ মন্ডল জানান,  চুলের ব্যান্ড পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি এটাই আমাদের কেয়া। নিহতের পিতা আব্দুস সামাদ জানান, পহেলা মার্চ তার মেয়েকে উঠিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি তার মেয়ে নিখোঁজ হয়। যাওয়ার সময় বাড়িতে রাখা তার বিয়ের খরচ বাবদ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, কালীগঞ্জ থানায় জিডি করলে পুলিশ ত্রীলোচাঁদপুর গ্রামের আজগার হোসেনের ছেলে আজিমকে আটক করে। পরে চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে ত্রীলোচাঁদপুর গ্রামের আজিম, সলেমানের ছেলে মিলন ও আশাদুলের ছেলে ইস্রাফিল হত্যা করেছে।

তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ছানা বলেছেন, আমি নয়, আজিমকে কেয়ার পিতা ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। চেয়ারম্যানের ভাষ্য মতে এই হত্যার সাথে মিলন নামে এক যুবক জড়িত থাকতে পারে। তাকে ধরলেই এই হত্যার রহস্য বের হতে পারে। মিলনই কেয়াকে হত্যা করতে পারে বলে সন্দেহ করছি।

গ্রামবাসী জানায়, বিয়ে হওয়ার পরও কেয়া গ্রামের কিছু যুবকের সাথে মোবাইলে কথা বলতো। হয়তো কারো সাথে প্রেমের সম্পর্কও গড়ে উঠতে পারে। সেই সুত্র ধরেই কিলার গ্রুপটি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কেয়াকে হত্যার পর তার কাছে থাকা ৯০ হাজার টাকা নিয়েছে।

নিহত কেয়ার পিতা জানান, মোবাইলের কল লিস্ট যাচাই করলেই কারা এই হত্যার সাথে জড়িত তা বেরিয়ে পড়বে। বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, এটা গলিত লাশ তাই ডিএনএ টেস্ট ছাড়া আমরা বলতে পারব না যে এটি কেয়া খাতুনের লাশ।