বিশেষ প্রতিবেদক:
রোজা রাখতে খেতে হবে সেহরী। খেতে হবে ইফতারী। সেহরী আর ইফতারীর খাবার জোগাতে কেনাকাটা করতেই হবে। তাই করোনায় লকডাউন ভেঙ্গে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সবকটি হাটবাজারে নেমেছে মানুষের ঢল।

করোনার এই সময়ে জীবনবাজি রেখে কেনাকাটা? এমন প্রশ্নের উত্তর নেই অনেকের মুখে। কিন্তু তাদের চোখে-মুখে নিরুপায়ের হতাশার ভাষা। কয়েকজন তো বলেই ফেলেছেন- দ্যত, করোনা। করোনার আগে না খেয়ে মরব নাকি?

নগরীর বহদ্দারহাটের একটি মুদির দোকানে ইফতারির জন্য চনা, মুড়ি, সয়াবিন তেল, ডাল, চাল কেনার সময় আজগর আলী নামে এক ক্রেতা বলেছেন-ভাই আপনাকে সৃষ্টি করেছেন কে? উত্তর আল্লাহ, দিতেই বললেন-করোনাও সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ। অতএব আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া করোনার কিছুই করার ক্ষমতা নাই।

বরং করোনাকে তারাই ভয় পাচ্ছে, যারা ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, জুলুমবাজ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অন্যের সম্পদ মেরে যারা ইমারত গড়েছে। তারা বাচার জন্য লকডাউন-ফকডাউন এসব করছে। যার কারণে কষ্ট পাচ্ছে খেটে খাওয়া নিরাপরাধ মানুষ।

নগরীর ঝাউতলা ওয়্যারলেস কলোনী বাজারে গিয়ে দেখা যায় মানুষের ঢল। সেখানে ভীড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করে মাছ কেনার সময় সগির আহমদ নামে একজন বলেন, রোজা রাখতে হলে তো সেহেরী খেতে হবে। ইফতারিও খেতে হবে। এ জন্য তো কেনাকাটা করতে হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণের বিষয়ে বলতেই রেগে গিয়ে তিনি বলেন, কিসের করোনা। আল্লাহর চেয়ে বড় করোনা? আল্লাহর ইবাদত করতে গিয়ে করোনা নয়, যেভাবে আমার মৃত্যু হোক কোন আফসোস নেই। তিনি বলেন, এতদিন লকডাউন করেছেন, ঘর থেকে বের হইনি। রোজার খাবারের জন্য আমাকে বের হতে হয়েছে। আমি নিরুপায়।

ঝাউতলা বাজারের একটি মুদির দোকানি পণ্যবিক্রয় করছেন কোনরকম নিরাপত্তা ছাড়াই। তার মুখে কোন মাস্ক নেই। হাতে কোন গ্লাভস নেই। দোকানে তিনি কোনোরকম স্যানিটাইজারও ব্যবহার করছেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই করোনায় মৃত্যু হলেও এটা হবে উসিলা। মানুষ তো আরও নানা দুর্যোগে মরছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মরছে, পানিতে মরছে, আকাশে মরছে-এগুলো কি। সবই আল্লাহর হুকুম ? সুতরাং করোনার ভয়ে ঘরে বসে থাকলে পেটে দেব কি?

এই সময় সরকারের ত্রাণের কথা বলতেই রেগে গিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ত্রাণ সরকারি লোকের জন্য। ৬৫ বছর বয়সে সরকারের কোন কিছু তো আমি পাইনি। আমি রাজনীতি করি না। তাই আমি বেসরকারি লোক। বরং আমি যা আয় করি, তা থেকে সরকার ট্যাক্সের নামে চাঁদা নেই।

তিনি বলেন, আমার খাবার আমি জোগাতে সক্ষম। যারা অক্ষম তারাই রাজনীতি করে। দেখেন না, তেনা-মেনা সব ফকির-টোকাই, চোর। এদের বাজারেও আসতে হয় না। দেশের সাধারণ মানুষ খাবার কেনার জন্য বাজারে আসে। দেখেন না বাজারে মানুষের ঢল।

এ সময় দেখা যায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মী আশরাফুল আলম হ্যান্ড মাইকে বারবার অনুরোধ করছেন-কেনাকাটা সেরে আপনার দ্রুত বাজার ত্যাগ করুন। তিনফুট দুরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করুন। কিন্তু কে শুনে কার কথা। এই ঘোষণা দিয়ে যে পথে তিনি হাঁটছেন সে পথেও ছিল প্রচন্ড ভীড়।

জানতে চাইলেই তিনি বলেন, ভাই, রোজার কেনাকাটা। লকডাউন না মেনে বাজারে মানুষের ঢল নেমেছে। কাকে ধরে রাখবেন আপনি। মাঠে পুলিশ-সেনাবাহিনীও নেই। যতটুকু পারছি আমরা করছি। নিজের থেকে সচেতন না হলে তো করার কিছুই নাই।