নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাধারণের পাশাপাশি করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে ৮ চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে সাতজন সরকারি, একজন বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। এ তথ্য চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন-বিডিএফের।

বিডিএফের মুখপাত্র ডা. নিরুপম দাশ জানান, সারা দেশে করোনা সংক্রমিত হওয়া চিকিৎসকের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০৬ জনে পৌঁছেছে। নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী মিলে এ সংখ্য তিন শতাধিক। সারাবিশ্বের মধ্যে এ হার বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। ডাক্তারদের মধ্যে আরও পরীক্ষা করানো হলে হয়তো আরও সংক্রমিত ডাক্তার পাওয়া যাবে। এভাবে চলতে থাকলে ১৫-২০ দিনের মধ্যে পুরো হেলথ সেক্টরই লকডাউন করবে।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ ডাক্তার কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের শিকার হয়েছে। কারও উপসর্গ ছিল, কারও ছিল না। এখানে এক নম্বর ফলস পিপিই (পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট)। দুই নম্বর কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এবং তিন নম্বর রোগীরা তাদের হিস্ট্রি লুকিয়ে সেবা নেওয়া।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য এন-৯৫ মাস্ক অপরিহার্য। কিন্তু চিকিৎসকদের নিন্মমানের পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। গগলসের নামে খেলনা চশমা সরবরাহ করেছে। এখন তো কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে। কে করোনার বাহক আর কে বাহক না তা বোঝা যাচ্ছে না।

এদিকে পিপিই ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএমএ নেতা ফয়সল ইকবাল চৌধুরী। তিনি বলেন, অনেকেই পিপিইর সঠিক ব্যবহার জানে না। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী যে পিপিই পড়ে ডিউটি করে, সেই পিপিই পরে বাসায় চলে যায়। এ অবস্থায় যদি করোনা ভাইরাস বহন করে তাহলে সে যে দিকে যাচ্ছে সেদিকে ছড়িয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, আমরা চাইবো যত কম সংখ্যক ডাক্তার ইনফেক্টেড হয়। কারণ এরাই হচ্ছে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা। একজন ডাক্তার ইফেক্ট হওয়া মানে তার সঙ্গে থাকা সকলেই ইফেক্টেড হওয়া। তাই সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্কতার সাথে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ডাক্তারদের আমরা এখন একসাথে কাজে লাগাচ্ছি না। তাদের রোস্টারভিত্তিক ডিউটি চলছে। সকল ডাক্তারের লিস্ট আমাদের কাছে আছে। যদি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হয়, তাহলে তাদেরও আমরা ব্যবহার করব।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রামের চিকিৎসক যারা সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের সাথে কথা বলতে হবে। তাহলে জানা যাবে। এভাবে হলে আমাদের ডাক্তার সংকট হয়ে যাবে এবং চিকিৎসাসেবায় প্রভাব পড়বে।

জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া বলেন, স্বাস্থ্যখাতের এত অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েও ডাক্তারেরা যে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবার তা সকলের কাছে ক্লিয়ার হয়েছে। এতদিন আমরা চিকিৎসকদের দোষারোপ করে এসেছি। কিন্তু কখনো তার ব্যবস্থাপনাকে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করিনি। এখন সকলের কাছে তা ক্লিয়ার হয়ে গেল। তাতে যে ক্ষতি হওয়ার তা হয়েই গেছে।

তিনি বলেন, ডাক্তাররা আগে সুরক্ষিত থাকা বা স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ রাখা মানে রোগীদের নিরাপদ রাখা। ডাক্তাররা কেবল নিজেদের নিরাপত্তা দাবি করছে ব্যাপারটা এরকম না। রোগীদের নিরাপত্তার জন্যই কিন্তু তারা নিজেদের নিরাপত্তা চাইছে।