নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম যে পরিমানে নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে, পরীক্ষা হচ্ছে তার অর্ধেক। জনসংখ্যার তুলনায় নমুনা সংগ্রহও খুবই কম। এ নিয়ে চরম হতাশা বিরাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকটি স্তরে। কয়েকটি স্তরে চলছে গা-সারা ভাবও।

এরমধ্যে রাতদিন সমানতালে যুদ্ধ করে চলেছে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত বিআইটিআইডি হাসপাতাল। চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার ছাড়া বাকী ১০ জেলার তিনকোটি মানুষের করোনার নমুনা পরীক্ষার একমাত্র ভরসাস্থল এটিই।

বিআইটিআইডির তথ্যমতে, মাত্র দুটি পিসিআর মেশিনে চলছে করোনার নমুনা পরীক্ষা। নমুনা পরীক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে মাত্র ৭ জন। যাদের পক্ষে দৈনিক ১০০-১২০টির অধিক নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ হাসপাতালে দৈনিক ২০০-২৫০টি নমুনা আসছে।

ফলে গত ২৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এ হাসপাতালে ১৫৮০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭২ জন। জনসংখ্যার তুলনায় চট্টগ্রামে করোনার নমুনা পরীক্ষার এই হার খুবই কম।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, চট্টগ্রামে করোনার সামাজিক সংক্রমণ চলছে। তবুও আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশের লোকজনই পরীক্ষা করছি আমরা। তারা শনাক্তও হচ্ছেন। পরীক্ষার পরিমাণ বাড়ালে আরও অনেকে করোনা রোগী শনাক্ত হতো।

তিনি বলেন, করোনার নমুনা পরীক্ষায় পিসিআর সংকট, জনবল সংকট, কিট স্বল্পতা, সবমিলিয়ে সংগৃহীত নমুনার অর্ধেক পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। সে কারনে নমুনা সংগ্রহও কম হচ্ছে। এ নিয়ে হতাশা চলছেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এ্যানিমেল সাইয়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ চট্টগ্রাম শাখা, চট্টগ্রাম মেরিন ফিশারিজ অ্যাকাডেমিসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে অন্তত ২০টি সচল পিসিআর মেশিন রয়েছে। আছে প্রশিক্ষিত জনবলও। যা কাজে লাগালে চট্টগ্রাম বিভাগের আরও ১০গুণ বেশি করোনার নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হতো।

বিআইটিআইডির ল্যাবপ্রধান ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক শাকিল আহমদ বলেন, আমাদের মাত্র দুটি পিসিআর মেশিনে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলছে। শুধু পিসিআর বা টেস্ট কিট হলেই হয় না। এ পরীক্ষার তিনটি স্তর আছে, প্রতিটি স্তরেই আলাদা প্রয়োজনীয় উপাদান লাগে। যা সবসময় পাওয়া যায় না। এর বাইরে দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদেরও কোয়ারেন্টাইনে যেতে হতে পারে।

চমেক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে পিসিআর মেশিন আছে তাদের উচিত স্বপ্রণোদিত এগিয়ে আসা। নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতেও মেশিনসহ প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে। এই দুঃসময়ে যদি এসব স¤পদের ব্যবহার না করি, কখন করব? স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া।

প্রসঙ্গত, করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নমুনা পরীক্ষার ওপর জোর দিয়ে আসছে।