নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত চারদিনে চট্টগ্রাম জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে চারজন। বিআইটিআইডি হাসপাতালে এই চারদিন একজন করে করোনা শনাক্ত হয়। যা দেখে অনেকেই মনে করছেন, চট্টগ্রামে কমে আসছে করোনা সংক্রমণ।

কিন্তু বাস্তবে স্বস্তিতে নেই কেউ। ফলে সামাজিক দুরত্ব বজায় অব্যাহত রয়েছে চট্টগ্রামে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা লকডাউন-সান্ধ্য আইনে কোনো শীতলতা আনেনি বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন।

তিনি জানান, চারদিনে করোনা শনাক্ত কম হওয়ায় চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ কমে আসছে মনে করা হলেও করোনাকে ছাড় দেওয়ার কোন ইচ্ছা প্রশাসনের নেই। এ নিয়ে কোন স্বস্তিও নেই। গত চারদিনের মতো আরো কয়েকটাদিন করোনা শনাক্তের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বুঝে-শুনে তারপর স্বস্তি।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন বিকল্প নেই। সেটা বজায় রাখতে প্রশাসন লকডাউন-সান্ধ্য আইন বাস্তবায়নে কঠোর হয়েছে। এতে সাফল্য আসবেই। গত চারদিনের করোনা শনাক্তের সংখ্যা তাই বলে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, শনিবার বিআইটিআইডিতে ১২২ নমুনা পরীক্ষায় চারজন করোনা শনাক্ত হয়। এরমধ্যে একজন চট্টগ্রামের। এর আগে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিনদিনে একজন করে ৩ জন করোনা শনাক্ত হয় চট্টগ্রাম জেলায়।

এর আগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ১১জন করোনা শনাক্ত হয়। এতে চট্টগ্রামের সামাজিক জীবনে আতঙ্ক নেমে আসে। ফলে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে লকডাউন-সান্ধ্য আইন বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হয়। এরপর থেকে কমে আসতে শুরু করে করোনা শনাক্ত।

চট্টগ্রাম স্বাস্থ্যবিভাগের হিসেবমতে, চট্টগ্রামে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ৩ এপ্রিল। নগরীর দামপাড়ায় ৬৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তার ওমরা ফেরত মেয়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হন। এরপর ৫ এপ্রিল ওই ব্যক্তির ২৫ বছর বয়সী ছেলেরও করোনা শনাক্ত হয়।

৮ এপ্রিল শনাক্ত হয় তিনজন। ১০ এপ্রিল দুইজন, ১১ এপ্রিল তিনজন, ১২ এপ্রিল তা বেড়ে শনাক্ত হয় পাঁচজন। এরমধ্যে একজন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য। এরপর ১৩ এপ্রিল শনাক্ত হয় দুইজন। ১৫ এপ্রিল শনাক্ত হয় পাঁচজন।

সূত্রমতে, চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে এপর্যন্ত ১৩৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। তম্মধ্যে ৬১জন করোনা শনাক্ত হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৩৫, নোয়াখালীতে তিনজন, লক্ষ্মীপুরে ২২ ও ফেনীতে একজন। চট্টগ্রামে এক শিশু, দুই বৃদ্ধ ও দুই নারীসহ মোট পাঁচজন করোনায় মারা গেছেন।