নিজস্ব প্রতিবেদক:
লকডাউনেও চট্টগ্রামে থেমে নেই পুলিশের ধান্দাবাজি। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান খোলা বা বন্ধ রাখা, রোগী পরিবহণ, রোগীর স্বজনদের যাতায়াতেও অর্থ আদায় করা হচ্ছে। যার কোন অভিযোগের সুযোগও পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা। যারা ক্ষোভ প্রকাশের আশ্রয় হিসেবে নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে।
বুধবার ফেসবুকে এমন একটি স্ট্যাটাস দেখে টাকা আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক উত্তর বিভাগের সার্জেন্ট জাকির হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান উপ-কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
তিনি বলেন, শওকত হোসেন নামে এক ব্যক্তি নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথায় চেকপোস্টে টাকা আদায় করার স্ট্যাটাস দেন ফেসবুকে। যার সত্যতা পেয়ে সার্জেন্ট জাকির হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পুলিশের সার্জেন্ট জাকির হোসেনকে প্রত্যাহার করা হলেও নগরীর বিভিন্নস্থানে পুলিশের ধান্দাবাজির অভিযোগ উঠে। এরমধ্যে নগরীর সদরঘাট থানার এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় হাসপাতালে এক রোগীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় গাড়ি গতিরোধ করলে বলা হয়, ভাইয়া হাসপাতালে যাচ্ছি খুব ইমার্জেন্সি। প্রতিউত্তরে এসআই বলেন, আমি তো তোমার ভাইয়া না। রোগী বাঁচুক আর না বাঁচুক, আমি যেতে দিবো না। এ সময় টাকা চাইলে দিতে না পারায় তাকে বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হলো।
স্থানীয়রা জানান, নগরীর আইসফ্যাক্টরী রোড থেকে মাদারবাড়ী রেল গেইট হয়ে কদমতলী মোড় পর্যন্ত এলাকায় প্রতিদিন পুলিশের পৃথক কয়েকটি টিম বিভিন্ন দোকানদার ও ব্যবসায়ীকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। তারপর মোটা অংকের টাকা আদায় করে ছাড়ে।
এ ব্যাপারে চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আতাউল্লাহ চৌধুরীও পুলিশের এই ধান্দাবাজির কথা স্বীকার করেন। নগর ছাত্রলীগের এক নেতাও পুলিশের ধান্দাবাজির কারনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এছাড়া চকবাজার থানা পুলিশের বিরুদ্ধেও লকডাউনের সময়ে টাকার বিনিময়ে বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অভিযোগ উঠে। এমনকি থানার গেইটের ঠিক বিপরীতে একটি মুদির দোকান চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, পুলিশের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাই একজন ব্যক্তির দায় পুরো পুলিশ বাহিনীর উপর চাপিয়ে দেয়া উচিত হবে না।