বিশেষ প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামের পটিয়ায় করোনা আক্রান্ত ৬ বছরের শিশু আশরাফুল ইসলামের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় চলছে। প্রশাসন বলছে, শিশুটি মানসিক ও বাক প্রতিবন্ধি। তার ঘরের বাইরে যাওয়ার কোন ইতিহাস নাই। তাহলে শিশুটি করোনা আক্রান্ত হল কিভাবে? এবং শিশুটির সংস্পর্শে এসেছিল কারা?

এ তথ্য খোঁজে বের করতে ব্যস্ত সময় পাড় করছে এখন। ইতোমধ্যে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির সংস্পর্শে আসা লোকদের বাড়ি এবং তাদের সংস্পর্শে আসা আত্নীয় স্বজনের বাড়িসহ ৫০টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলে জানান পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা।

তিনি জানান, শিশুটি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার নেপথ্যে ইতোমধ্যে আমরা বিদেশ ফেরত দু‘জন এবং ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা দু‘ব্যক্তির তথ্য পেয়েছি। ফলে তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তাছাড়া তারা আরো কোথায় কোথায় গেছেন, কার কার সংস্পর্শে এসেছেন তার তথ্য খোঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

তথ্যমতে, শিশুটির বাবা ওমান প্রবাসী। তবে মাসচারেক আগে তিনি দেশে ফিরেন। এরপর আর ওমানে যাননি। পটিয়ায় ছোটখাট ব্যবসা শুরু করেছেন। তখনো অবশ্যই করোনার মহামারি শুরু হয়নি। তবু বিদেশ ফেরত জেনে তাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া শিশুটির এক চাচা হংকং থেকে একমাস আগে পটিয়ার বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি এক সপ্তাহ বাড়িতে থাকার পর আবার হংকং চলে যান। বাবা ও চাচা দু‘জনেই শিশুটির সংস্পর্শে ছিলেন।

এছাড়া শিশুটির বাড়ির পাশে একজন ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়ি। তিনি ইসলামী ব্যাংকের ঢাকা নবাবপুর শাখার কর্মকর্তা। ৫-৬ দিন আগে ঢাকা থেকে তিনি চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিজ বাড়িতে আসেন। তিনিও শিশুটির সংস্পর্শে এেেসছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকেও শিশুটির এক আত্নীয় সম্প্রতি পটিয়ায় এসে তার সংস্পর্শে আসেন।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিদেশ ফেরত ও ঢাকা থেকে ফেরা দুজনকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ওই নির্দেশ না মেনে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করেছে। গত মঙ্গলবারও সেখানে গিয়ে তাদের জরিমানা করতে চাইলে দুজনই কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা মানবেন বলে অঙ্গীকার করেন। এরপর আর জরিমানা করা হয়নি।

কিন্তু দেখা গেছে ৯ এপ্রিল থেকেই শিশুটির সর্দি-কাশি শুরু হয়। সঙ্গে জ্বরও। অবস্থার অবনতি ঘটলে ১১ এপ্রিল শিশুটিকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির করোনা উপসর্গ দেখে ফ্লু কর্নারে নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন।

পরে ওই নমুনাটি চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত হাসপাতাল বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়। এরপর ১২ এপ্রিল রাতে নমুনা পরীক্ষায় শিশুটি করোনা পজেটিভ আসে। এরপর রাত ২টা ১০ মিনিটে শিশুটিকে চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মো. জাবেদ জানান, শিশুটি জন্ম থেকেই মানসিক ও বাক প্রতিবন্ধী ছিল। জন্ম থেকেই শিশুটি উঠোন দেখেছে বাড়ির ভেতর শুয়ে শুয়ে। বয়স যখন ছয়, তখন কঠিন পৃথিবীতে অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়ে লাশ হল শিশুটি।

তিনি বলেন, কোনো না কোনোভাবে ওই শিশুটি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে। করোনার বীজ বহন করা সেই রোগী ওই শিশুটির ঘরে ঢুকেছেন। কিন্তু কে সেই করোনা রোগী এই প্রশ্নই এখন ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনকে। তবে তার বাবা-মা আত্নীয়সহ তার সংস্পর্শে আসা সবার নমুনা সংগ্রহ করে বিআইটিআইডি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।