নিজস্ব প্রতিবেদক:
বঙ্গোপসাগরে লবণবাহী একটি নৌকায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মোহাম্মদ দিদার নামে এক মাঝির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৭ জনকে নৌকায় কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম রবিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম শহরমুখী ওই নৌকার মাঝি মোহাম্মদ দিদারের মরদেহ সন্দ্বীপ উপজেলায় নামানো হয়েছে। তার মরদেহ সন্দ্বীপের নিজ বাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে তার নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত বিআইটিআইডি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া বাকী ৭ জনকে নৌকায় কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলায়। তারা ওই নৌকার খালাসি বলে জানান তিনি।

নৌকায় থাকা খালাসি মামুন জানান, চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে লবণ নিয়ে তারা খুলনা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে হাতিয়ার উপকূলের কাছাকাছি পৌছালে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে মারা যান মাঝি মোহাম্মদ দিদার।

লাশ নিয়ে সন্দ্বীপে নৌকা ভেড়ানোর চেষ্টা করলে প্রশাসন বাধা দেয়। ফলে লাশ নিয়ে প্রায় ২০ ঘন্টা সাগরে ভাসতে হয়। পরে শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে প্রশাসন। এরপর মাঝির লাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিআইটিআইডি হাসাপাতালে পাঠানো হয়।

সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম বলেন, করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মাঝিসহ সবাইকে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে সন্দ্বীপের নিজ বাড়িতে দাফনের পাশাপাশি তার নমুনা সংগ্রহ করে বিআইটিআইডি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অন্য মাঝিদের নৌকায় কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। সাগরে নৌকায় এটাই প্রথম কোন কোয়ারেন্টাইন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম।

তিনি আরো বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে নৌকার মাঝি দিদার মারা গেলেও সে প্রকৃতপক্ষে করোনা আক্রান্ত কি না তা এখনো িিনশ্চত নই। তবে আজ রবিবার বিআইটিআইডির নমুনা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলেই সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।