এনামুল হক নাবিদ, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) :
করোনায় পাঁচশতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাটাই করেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কেইপিজেডের একটি কারখানা। এ নিয়ে কোনো রকম ক্ষোভ-বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ করবেন, তারও উপায় দেখছেন না শ্রমিকরা। ফলে এমন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে অসহায় পড়েছেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা জানান, ইনটিমেট এপারেলস লিমিটেড নামে চীনের হংকংভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানে মূলত মহিলাদের ব্রা-প্যান্টি তৈরী হয়। এতে সাত শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। কিন্তু গত মার্চ মাসের বেতন দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের নানা কৌশলে কাজে না আসতে বলে দেন তারা।

শ্রমিকরা আরও জানান, ছাটাইয়ের বিষয়টি যাতে বাইরে প্রকাশ করা না হয় সে জন্য তাদেরকে আবার চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাসও দিয়ে রেখেছেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। যা একটি অপকৌশল বলে মনে করছেন সিনিয়র শ্রমিকরা।

এ প্রতিষ্ঠানে ৪ মাস ধরে চাকরি করছেন আনোয়ারা উপজেলার বরকল ইউনিয়নের পারভিন আক্তার (২৪)। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কারখানা বন্ধ হওয়ার পর ৬ এপ্রিল বেতন তুলেছি। এরপর ফ্লোর ইনচার্জ বলে দিয়েছেন আপাতত কারখানায় না আসতে।

কর্ণফুলী উপজেলার আশরাফ হোসেনও বেতন গ্রহণের পর একই জবাব পান। এছাড়া বান্দরবানের লক্ষীরানী, রাঙামাটির মুন্নি আকতার, রাউজানের ফিরোজা বেগম, হাটহাজারীর আলাউদ্দিন, ভোলার নাসরিন আক্তারসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীকে একই জবাব দেন ফ্লোর ইনচার্জ মহিউদ্দিন।

ফ্লোর ইনচার্জ মহিউদ্দিনের মতে, করোনা পরিস্থিতির কারণে মালিকের কাজের অর্ডার নেই। যদি আবার কখনও অর্ডার হয়, বা শ্রমিক প্রয়োজন হয় তখন শ্রমিকদের আবার খবর দেওয়া হবে।

শ্রমিকদের ভাষ্য, কোন শ্রমিকের চাকরির মেয়াদ ৬ মাস হলে তাকে স্থায়ী করা হয়। তখন আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের কিছু অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়। তাকে ছাঁটাই করতে হলে ৩ মাস ১৩ দিনের অগ্রিম বেতন দিয়ে ছাঁটাই করতে হয়।

কিন্তু যেসব শ্রমিককে কাজে যোগ দিতে নিষেধ করা হয়েছে চলতি মাসে কিংবা আগামী মাসে তাদের অনেকের চাকরির মেয়াদ ৬ মাস পূর্ণ হতো। এতে ঈদে তারা বোনাস পেতো। এখন চাকরি থেকে ছাটাইয়ের ঘটনায় তারা দিশেহারা।

কেইপিজেডের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মশিউদ্দিন বিন মেজবাহ বলেন, অস্থায়ী শ্রমিকদের ছাটাইয়ে আইনি বাধা না থাকলেও তা অমানবিক। কেইপিজেডের কোন কারখানা তা করতে পারে না। অন্তত করোনার এমন পরিস্থিতিতে মোটেও না।

তিনি বলেন, অস্থায়ী শ্রমিকদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করতে হলেও কিছু নিয়মকানুন আছে। একসাথে এত শ্রমিক বিদায়ের সুযোগ নেই। দুই একজন যদি কারখানার পরিবেশের সঙ্গে খাপ না খায় কিংবা কাজের মান ভালো না হয় তার ব্যাপারে মালিকপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে সরকার যেহেতু আমাদের পাশে আছে করোনাকে পুঁজি করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সুযোগ নেই। কেউ যদি আমাদের অফিসে অভিযোগ করে আমরা বিষয়টি দেখবো।

শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে কথা বলতে ইনটিমেট এপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোহরলাল উত্তমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। ভারতের যোধপুরে জন্ম নেওয়া মনোহরলাল উত্তম মূলত হংকংয়ের বাসিন্দা।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, কেইপিজেডের ৯১-৯৩ প্লটে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি। এর গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে বিশ্বখ্যাত বনপ্রিক্স, সিএন্ডএ, এইচএন্ডএম, জেসি পেনি, মার্কস এন্ড ¯েপন্সার, ওয়ান্ডার ব্রা, নেক্সটসহ আরও নানা প্রতিষ্ঠান।