নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামে আরও ২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্ত বেড়ে দাড়াল ৭ জনে। জেলার সীতাকুন্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) থেকে শুক্রবার রাতে পাওয়া ফলাফলের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি জানান, শুক্রবার বিআইটিআইডি মোট ৯৯ জনের নমুনার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। এতে দুই জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ১০৪ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে বিআইটিআইডি। এতে কারোই করোনা শনাক্ত হয়নি বলে জানান।

সিভিল সার্জন জানান, শুক্রবার রাতে পাওয়া ফলাফলে করোনা শনাক্ত দুজনই পুরুষ। এর একজনের বয়স ৩৫, আরেকজনের বয়স ৫০। একজনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজারের শিববাড়ি লেইনে। আরেকজন গোলপাহাড় মোড় এলাকার বাসিন্দা।

তিনি আরও জানান, গত ২৫ মার্চ থেকে চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত ৫১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলো। এরমধ্যে গত শুক্রবার ও রোববার চট্টগ্রামে দুইজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরা দুইজনই স¤পর্কে বাবা-ছেলে। তাদের বাসা নগরীর দামপাড়া এলাকায়। দুইজনই চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এরপর গত বুধবার আরও তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয় চট্টগ্রামে। এর মধ্যে একজন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার বাসিন্দা। বাকি দুইজন নগরীর হালিশহরের শাপলা আবাসিক এলাকা ও সাগরিকা এলাকায় থাকেন। তারাও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

সেই সাথে আজ শুক্রবার দুইজন সহ করোনা শনাক্ত বেড়ে দাড়িয়েছে ৭ জনে। এদের মধ্যে প্রথম করোনা শনাক্ত বাবা ও ছেলে সৌদিআরব থেকে ওমরা ফেরত মেয়ের সংস্পর্শে থাকার তথ্য থাকলেও পরবর্তি ৫ জনের একজনেরও সে রকম কোনো ইতিহাস নেই। তাতে ধারণা করা হচ্ছে- চট্টগ্রামের করোনার সামাজিক বিস্তার শুরু হয়ে গেছে।

সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পুরো চট্টগ্রাম এখন লকডাউনে। চট্টগ্রামে প্রবেশ ও বাহিরেও নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। তবুও নগরীর পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় লকডাউন অমান্য করে একশ্রেণির মানুষ সামাজিক দুরত্ব মেনে চলছে না। বিশেষ করে ত্রিশোর্ধ্ব মানুষ প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসছে। ফলে করোনার সামাজিক বিস্তার ঘটছে।

এ বিষয়ে সিএমপির কমিশনার মাহবুবর রহমান বলেন, দেশের মানুষের তো আইন না মানার প্রবণতা রয়েছে। ফলে জোর করেও এদের আইন মানানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে যা হওয়ার হচ্ছে। তবে এখন থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর কাউকে বাইরে পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।