নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামে সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। বুধবার রাতে বিআইটিআইডিতে ৬০ জনের নমুনা পরীক্ষায় তিনজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যাদের কারোই বিদেশ ফেরত প্রবাসী বা ওমরা ফেরতদের সংস্পর্শে আসার কোন ইতিহাস নেই।

এ থেকে ধরে নেয়া যায় চট্টগ্রামে সামাজিকভাবে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়ে গেছে। এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি জানান, আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজনের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড পৌর সদরের উত্তর বাজার গোডাউন পাড়া এলাকায়। তিনি একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।

অন্যজনের বাড়ি নগরীর পাহাড়তলী থানার শাপলা আবাসিক এলাকায়। তিনি ৩৫ বছর বয়সী নারী। অপরজন নগরীর পাহাড়তলী থানার সাগরিকা এলাকায় ফারুক ভবনের চতুর্থ তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন। তিনি একজন গার্মেন্টস কর্মী।

তাদের পরিবারে প্রবাসী বা বিদেশ ফেরত কেউ নেই। বিদেশ ফেরত এমন কারো সংস্পর্শে আসার কোনো ইতিহাসও নেই। তাদের সঙ্গে একে অপরের কোনো স¤পর্ক নেই। কোনো করোনা রোগীর সাথেও সম্পর্ক নেই। ফলে ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে বুঝা যায়, করোনার সামাজিক বিস্তারের কারণেই এমন র‌্যামডম রোগী ধরা পড়েছে।

সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও প্রবেশপথ বন্ধের দরকার ছিল আগেই। কারণ আপনি কাকে সাসপেক্ট করবেন? আমরা তো বিদেশফেরত সবাইকে কোয়ারেন্টাইনের শর্তেই ছেড়েছিলাম। কিন্তু উনারা বাড়ি গিয়েই সমাজে মিশে গেছেন। এখন আমরা আবারও ওমরা ফেরতদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করছি। এর বাইরে যারা তাদের সং¯পর্শে এসেছিলেন তাদেরও ট্রেস করার চেষ্টা চলছে। মানুষকে কোনোভাবেই বোঝানো যাচ্ছে না। বাজারে-মসজিদে কোথাও ঠেকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। এভাবে হলে সামাজিক সংক্রমণ ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর শনাক্ত হওয়া দুইজনের বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। আর সীতাকুন্ড উপজেলায় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নমুনা সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে তিনজনই বাসায় রয়েছে। তাদের অবস্থা বুঝে আইসোলেশন ওয়ার্ডে আনা হবে। তাদের বাড়িও লকডাউন করা হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমান বলেন, বলপ্রয়োগ করে মানুষকে আইন মানানো সম্ভব নয়। তাদের নিজেদেরই সচেতন হতে হবে। আমরা নরমে গরমে চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা শুনলে তো? এখন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকান, মার্কেট এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। চট্টগ্রাম নগরের সব প্রবেশপথ ও বিভিন্ন পয়েন্টে সিএমপির পক্ষ থেকে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর রোগীর নিজের বাড়ি, আশপাশের আরও পাঁচটি বাড়ি, ওমরাফেরত মেয়ের বাড়ি, তার শ্বশুরবাড়ি, তাদের দুই নিকট আত্নীয়র বাড়ি ও প্রতিবেশীর গ্রামের বাড়িসহ ১৪টি বাড়ি লকডাউন করে প্রশাসন। একইসঙ্গে বৃদ্ধের চিকিৎসায় জড়িত এমন তিন চিকিৎসক ও ২০ হাসপাতাল কর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়। পরে ওই বৃদ্ধের ছেলে করোনা পজেটিভ হলে সুপারশপ দি বাস্কেটের ৭৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন ও প্রতিষ্ঠানটি লকডাউন করা হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চট্টগ্রামের এক ব্যক্তির গ্রামের তিনটি বাড়ি লকডাউন করেছে জেলা প্রশাসন। একইদিন নগরীর পাহাড়তলী থানার শাপলা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির ছয় পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।