নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেও চট্টগ্রামে সচল এক হাজার ২২৯টি শিল্প-কারখানার মধ্য রোববার উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে ৩৭৭টি কারখানায়। এরমধ্যে ১৮৭টি তৈরি পোশাক কারখানা আর বাকি ১৯০টি অন্যান্য খাতের। ফলে এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

যদিও চালু থাকা গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, বিজিএমইএ থেকে গার্মেন্ট বন্ধ রাখার আহ্বানটি শনিবার অনেক রাতে আসায় তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার থেকে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করবে তারা।

শিল্প পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে ৭১১টি। তবে বিজিএমইএ এর হিসাবে চট্টগ্রামে চালু কারখানা ৩৬৯টি। তবে শিল্প পুলিশের তালিকায় বিকেএমই এর তালিকাভূক্ত কারখানাও রয়েছে। এরমধ্যে ১৮৭টি তৈরি পোশাক কারখানা। এরমধ্যে চট্টগ্রাম ইপিজেডে পোশাক কারখানা খোলা ছিল ৬৯টি। নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় চালু ছিল ৪৮টি।

এছাড়া চট্টগ্রামে পোশাক কারখানার বাইরে (নন-আরএমজি) সচল কারখানা আছে আরও ৫১৮টি। এরমধ্যে খোলা ছিল ১৯০টি। এরমধ্যে সীতাকুন্ড উপজেলায় ১১৮টি শিল্প কারখানার মধ্যে ৭১টি কারখানায় উৎপাদন সচল ছিল। নাসিরাবাদ এলাকায় ৮২টি শিল্প কারখানার মধ্যে ৪২টি কারখানায় পুরোদমে কাজ চলেছে। শ্রমিকদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ করানোর নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ কারখানা শুধু হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, সুরক্ষা বলতে শ্রমিকদের মূলত: কারখানায় প্রবেশের সময় হাত ধোঁয়ানো ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অনেক শ্রমিককে মাস্ক পড়তে দেখেছি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ইপিজেডে কর্মরত ২ লাখ শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক উপস্থিত ছিল। রোবার সকাল ৮ টার মধ্যে দল বেঁধে এই শ্রমিকরা একটি মাত্র গেইট দিয়ে ইপিজেডে প্রবেশ করেছেন। এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একসাথে হেঁটে ইপিজেডে প্রবেশের সময় চাইলেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের সবচেয়ে ঝূকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেন সিইপিজেড ও কেইপিজেডকে।

সিইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠান মালিকদের বুঝিয়েছি যেহেতু এটা একটি জাতীয় দূর্যোগ তাই সরকারি প্রজ্ঞাপন মেনে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করতে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম ইপিজেডের ৬৫ টি কারখানা বন্ধ রেখেছে। অনেকে একটু সময় চেয়েছে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য। এজন্য ইপিজেড পুরোপুরি বন্ধ হতে আরও ২/১দিন সময় লাগতে পারে। যদিও এর আগে কারখানা খোলা রাখতে হলে ৭ দফা সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলার সার্কুলার জারি করেছিল বেপজা।

কর্ণফুলী ইপিজেডে ১৫ টি কারখানা পুরোপুরি খোলা ছিল জানিয়ে এই ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মশিউদ্দিন বিন মেজবাহ বলেন, আরও ১৮ টি কারখানা শিপমেন্ট অর্ডার কমপ্লিট করার জন্য আংশিক খোলা রেখেছিল। কর্ণফুলী ইপিজেডের প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক রোববার উপস্থিত ছিল। তবে অনেক কারখানা সোমবার থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।