নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে তবলীগ জমাতের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তাবলীগ জামাতের আমলী শুরার সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেশের সকল মার্কাজগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইরে তাবলীগ জামাতে আসা এক মুসল্লি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত  হওয়ার ঘটনায় ইসলামী দাওয়াত ভিত্তিক এই সংগঠনটি বাংলাদেশে তাদের দাওয়াতের সকল কাজ স্থগিত করার এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান চট্টগ্রামে তাবলীগ জামাতের চারিয়া মার্কাজের দায়ী মাওলানা জাকারিয়া নোমান।

তিনি বলেন, ‘দেশের এ পরিস্থিতিতে তাবলীগ জামাতের সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, বিশেষ করে মসজিদ ভিত্তিক দাওয়াতি কাজ। বর্তমান পরিস্থিতিকে সামনে রেখে আমলী শুরার বড়দের থেকে আমাদের কাছে এ হিদায়েত (নির্দেশনা) পৌঁছানো হয়েছে। আমাদের বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে নিজেদের জজবাকে নিয়ন্ত্রণ করে দেশের বিজ্ঞ ফুকাহায়ে কেরাম যা বলেন, সেগুলো অবশ্যই অনুসরণ করতে।

তিনি বলেন, ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, মসজিদে ফরজ নামাজ পড়ে সুন্নত বাসায় গিয়ে পড়তে। সে হিসেবে আমরা আমাদের দেশে সব রকম মসজিদ ভিত্তিক আমল বন্ধ রাখব এবং চলতি জামাতগুলোকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যারা সময় লাগতে চান তারা সময় লাগবেন। এর বিপরীত কোনো কিছু চিন্তা করার অবকাশ আমাদের নেই।

ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে তাবলীগ জামাতে গিয়ে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হন। শনিবার রাত ১২টায় পৌর এলাকা লকডাউন করে স্থানীয় প্রশাসন। এরপর তাবলীগ জামাতের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পরিষদ তাদের কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্তটি এলো।

প্রসঙ্গত, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তাবলীগ জামাতের একটি সমাবেশে যোগ দেওয়া অন্তত ৩০০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়ার পর ওই ঘটনাটিকে ঘিরে সেদেশে মুসলিমবিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া হয়। মামলা হয় তবলীগ জমাতের মুরুব্বীখ্যাত মাওলানা সা’দ এর বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে যতো মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশই সেখানকার তাবলীগ জামাতের একটি ধর্মীয় জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশেও তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম নিয়ে শঙ্কা বাড়ছিল।