নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলা বিদেশ ফেরতদের সনদপত্র প্রদান করছে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ। এরমধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইন পূর্ণ করা ১৬০ জনের বাড়িতে এই সনদপত্র পৌছে দিয়েছে পুলিশ।

সনদপত্র প্রাপ্তদের মধ্যে বিদেশ ফেরত প্রবাসী, ওমরা হজ্ব ফেরত ও জর্ডান থেকে প্রশিক্ষণ ফেরত ২৫ পুলিশ সদস্যও রয়েছে। যাদের ধন্যবাদ স্বরূপ হোম কোয়ারেন্টাইন সমাপ্তিকরণ সনদ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্টেপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, সঠিকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ করায় তাদের ধন্যবাদ স্বরূপ হোম কোয়ারেন্টাইন সমাপ্তিকরণ সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে। প্রতি থানার ১০ জন করে মোট ১৬০ নাগরিকের বাসায় এ সনদপত্র পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এছাড়া জর্ডানে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে আসা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ২৫ কর্মকর্তা ও সদস্যকেও এ সনদ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

এর আগে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের বাসায় ফলমুল পাঠিয়ে প্রশংসিত হয়েছিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার ক্ষেত্রে অনন্য ভুমিকা পালন করে মেট্টোপলিটন ও জেলা পুলিশের সদস্যরা।

পুলিশের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে মোট ৯৭৩ জন বিদেশ ফেরত হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছিল। এরমধ্যে করোনা আক্রান্ত ইতালি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসী যেমন রয়েছে। তেমনি ওমরা হজ্ব ফেরতও রয়েছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্যমতে, সর্বশেষ গত ২০ ও ২১ মার্চ এয়ার অ্যারাবিয়া ও ফ্লাই দুবাইয়ের তিনটি ফ্লাইটে মোট ৩৫৩ যাত্রী মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরেন। এর মধ্যে ২১ মার্চ এয়ার অ্যারাবিয়া ফ্লাইটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ১১৬ যাত্রীর সবাই ওমরা ফেরত ছিলেন। কিন্তু আগের দিনে ২০ মার্চ এয়ার অ্যারাবিয়া ও ফ্লাই দুবাইয়ের দুটি ফ্লাইট ২৩৭ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম আসলেও এদের মধ্যে কতজন ওমরা ফেরত ছিলেন তার কোন তথ্য নেই। স্বাস্থ্য বিভাগের তালিকায়ও ওমরাহ ফেরতদের তালিকা নেই। তবে কোনো দেশে থেকে ফিরেছেন তা উল্লেখ আছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি মিয়া জানান, ২০ মার্চ ফ্লাই দুবাই ও এয়ার এরাবিয়ার ফ্লাইটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২৩৭ যাত্রী চট্টগ্রামে এসেছেন। তাদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। পরে ২১ মার্চ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছিল। এয়ার অ্যারাবিয়া ফ্লাইটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এ যাত্রীরা চট্টগ্রামে পৌঁছান। তারা সবাই ওমরাহ যাত্রী ছিলেন।

শেখ ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, ওমরা ফেরতদের আলাদা কোনো তালিকা নেই। তবে বিমান যোগাযোগ বন্ধের আগ পর্যন্ত ৯৭৩ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকা পুলিশ, গোয়েন্দা ও উপজেলা প্রশাসনকে দেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোদের মধ্যে অনেক প্রবাসী তা মেনে না চলায় জরিমানা করা হয়েছে। তম্মধ্যে ওমরা ফেরতরাই হোম কোয়ারেন্টাইন অমান্য করেছে বেশি। গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের দামপাড়ায় ওমরা ফেরত মেয়ের সংস্পর্শে থাকা ব্যাংক কর্মকর্তা বাবা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে।

হাটহাজারী উপজেলা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, সিভিল সার্জন অফিস থেকে আমি হাটহাজারী উপজেলার ৪০ জন কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর তালিকা পেয়েছি। তবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ মিলে হাটহাজারীতে বিদেশ প্রত্যাগত ৫০৩ জনের তালিকা করি। এদের সবার কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়ন করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।