নিজস্ব প্রতিবেদক : চারতলা ভবনটির নিচে দৈনন্দিন গৃহস্থালী ময়লার স্তূপ জমেছে। যা পরিষ্কার হয় না দীর্ঘদিন। পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপ ফাটা থাকায় ময়লা পানি পড়ছে ভবনের দেয়াল বেয়ে। ময়লা ফেলা হয়েছে সানশেডের ওপরও। নিচতলা ও দ্বিতীয়তলায় কবুতর-মুরগির রীতিমতো ‘খামার’ গড়ে তোলা হয়েছে। ছাদ থেকে নেমেছে আগাছা, দেয়ালে জন্মেছে শ্যাওলা!

চট্টগ্রামের সিডিএ আবাসিকের এলাকার ২৩/১ রোডের তিন নম্বর বাড়ি মমতাজ মঞ্জিলের দৃশ্য দেখলে আঁতকে উঠতে হয়। বাড়িটি নিয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের অভিযোগের অন্ত নেই। তাদের অভিযোগ, বাড়ির মালিককে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। জানানো হয়েছে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকেও। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। করোনা সঙ্কটের মধ্যে যদি ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় তাহলে কি পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা নিয়ে শঙ্কিত আশপাশের মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ স্থান হয়ে উঠেছে মমতাজ মঞ্জিলের চারপাশ। ক্রয়সূত্রে ভবনটির মালিক সাবেক কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী হোসেন আহমদ। এলাকার এই প্রভাবশালী নেতা গত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী এইচ এম সোহেলের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ভবনটি হোসেন আহমদের নির্বাচনী ক্যাম্প ছিল।

বর্তমানে বাড়িটির প্রতিটি ফ্ল্যাটেই ভাড়াটিয়া আছেন। তবে দীর্ঘদিন যাবত ভবনটির আশপাশ পরিষ্কার করা হয়না। ভবনের পেছনের ভাঙা সুয়ারেজ পাইপ দিয়ে পানি গড়িয়ে নিচে পড়ে। জমে থাকা সেই পানিতে ডিম পাড়ছে মশা। এলাকায় বাড়ছে মশার উৎপাত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ‘এসব বিষয় নিয়ে হোসেন আহমদকে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেয়া দূরে থাক, উল্টো হুমকি-ধমকি দেন। স্থানীয় কাউন্সিলর এইচ এম সোহেলকেও বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু তিনি এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।’

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হাজী হোসেন আহমদ জানান, সেখানে তো তেমন কিছু নেই। আমি সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি। তারপরও যদি ময়লা-আবর্জনা কিছু থেকে থাকে সেটা আমরা কাল-পরশুর মধ্যে পরিষ্কার করে ফেলব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ২৭নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল জানান, ‘আপনি যেখানকার কথা বলছেন, সেটা একটা পরিত্যক্ত জায়গার মতো। সেখানে ঢোকার তো কোনো পথ নেই। ওখানে ঢুকতে হলে কারও ঘর-বাড়ি ভেঙে ঢুকতে হবে। যদিও এটা আমাদের কাজ নয়, তারপরও ঢুকতে পারলে তো আমরা পরিষ্কার করতে পারতাম। এরপরও আমাদের সুপারভাইজারকে পাঠাবো।

বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘আমাদের সে এখতিয়ার নেই। বাড়িটির আশপাশের বাড়ির মানুষজন চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরে মামলা করতে পারেন। তখন আমরা তাদের সাপোর্ট করব।’