নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ ও পরবর্তি পরিস্থিতি সামলাতে সমন্বিতভাবে ১৪টি উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, সেনা-নৌ ও পুলিশ প্রশাসন। সে অনুযায়ী কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি মিয়া।

তিনি বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের ফলে চট্টগ্রামে এখনো কোনো করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়নি। এতে সমন্বিত কার্যক্রমে আরো গতি এসেছে। করোনা বিরোধী সমন্বিত কার্যক্রম চট্টগ্রামে অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু হোম কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়ন, লকডাউন, জীবাণুনাশক স্প্রে, অসহায়দের খাবার বিতরণে তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হলেও তাদের চিকিৎসা, যাতায়াত, মৃত্যু হলে তাদের দাফন বা দাহ করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

রোগী শনাক্তকরণ :
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিআইটিআইডি‘র নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু হয় ২৫ মার্চ থেকে। এ পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু একজনও করোনা শনাক্ত হয়নি বলে জানান সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি মিয়া।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে চট্টগ্রাম বিভাগের সন্দেহভাজন সকল করোনা রোগীর নমুনা পরীক্ষা করবে বিআইটিআইডি। প্রয়োজনে গুরুতরদের নমুনা রোগীর বাড়িতে গিয়েই সংগ্রহ করবে বিআইটিআইডি।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলররা সন্দেহভাজন করোনা রোগী ও বিদেশ ফেরতদের বিষয়ে তথ্য দেবেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে যারা আছেন তারা সঠিকভাবে নির্দেশনা মেনে চলছেন কিনা তাও মনিটরিং করবেন।

আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা :
চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় বিআইটিআইডিতে ৫০টি, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০০টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে পুরোপুরিভাবে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে। এমনটাই বলেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর।

আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিতকরণ :
করোনা আক্রান্ত রোগীদের যে দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে তার একটিতেও আইসিইউ সুবিধা নেই। ফলে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীরা আইসিইউ সেবা পাবেন না এ আশঙ্কা করছেন অনেকে। তবে সে আশঙ্কা না করার আহ্বান জানিয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে শুধুমাত্র চমেক হাসপাতালে ১০টি সচল আইসিইউ বেড রয়েছে। তবে আমরা আপাতত চমেক হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার বাইরে রাখতে চাইছি। খুব জরুরি হয়ে গেলে তা ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের আইসিইউ বেড তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রামের ছয়টি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ সুবিধা আমরা নেবো। এর মধ্যে একটি হচ্ছে নগরের বেসরকারি পার্কভিউ হসপিটাল।

আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির দাফন :
করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত পন্থা অনুযায়ী নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার আরেফিননগরে একটি খালি জায়গায় দাফন করা হবে। হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

শেখ ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, প্রশিক্ষিত চারজন ব্যক্তি মৃতের গোসলসহ অন্যান্য সব কাজ করবেন। এই ব্যক্তিরা স¤পূর্ণভাবে সেফটি নিয়েই কাজ করবেন। সন্দেহভাজন মৃত্যুকে যদি করোনা আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয় তাহলে তাকে গোসল দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। অবশ্যই ওই ব্যক্তিতে স্বাভাবিকভাবেই দাফন করা হবে। কারণ মৃত ব্যক্তির যেহেতু শ্বাস-প্রশ্বাস থাকে না তাই এতে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি নেই।

চিকিৎসক ও নার্সদের সুরক্ষা :
করোনায় সবার আগে চিকিৎসকদের সুরক্ষার কথা ভাবছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। তাই যে সকল চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করবেন তাদের থাকা-খাওয়ার জন্য আইসোলেটেড হোমের সুব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের জন্য সরবরাহ করা পিপিই, মাস্ক, গ্লাভসসহ সব ইকুইপমেন্ট হবে হাইলি সিকিউর। এর বাইরে যারা থাকবেন, তাদের স্ব স্ব কাজের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হবে বলে জানান সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি মিয়া।

তিনি জানান, চট্টগ্রামে মোট ৬৭৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের নিয়েই করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হবে। এখানে মূলত করোনাভাইরাসের কারণে আক্রান্ত রোগী যে ধরনের সমস্যা ফেস করবেন সে চিকিৎসাই করা হবে।

কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়ন :
বিদেশ ফেরতদের সং¯পর্শে এসেছেন এমন ব্যক্তিকে আলাদা রাখার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ হোম কোয়ারেন্টাইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রথমে দুটি স্কুল ও পরে দুটি হোটেলকে কোরেন্টাইনের জন্য ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এখন নগরের সিআরবি রেলওয়ে হাসপাতালকে সেক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন, চীনে যে হোটেলে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছিল, পরে সে হোটেলটি পুরোই জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় আমাদের হোটেল ভাড়া কে দেবে? তাই রেলওয়ে হাসপাতালকে সেক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় স্ব স্ব থানার ওসি ও কাউন্সিলররা তত্ত্বাবধায়ন করবেন। এছাড়া উপজেলাগুলোতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সর্দাররা দেখবেন।

তিনি জানান, চট্টগ্রামে বিদেশ ফেরত ৯৭৩ জনকে জেলা প্রশাসন থেকে হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। এখনও ৯৩৮ জনের ক্ষেত্রে সেই কোয়ারেন্টাইন বলবৎ আছে। কোয়ারেন্টাইন পূর্ণ করেছেন ৩৫ জন। যারা কোয়ারেন্টাইন মানেননি তাদের অনেককেই জরিমানা করা হয়েছে। এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক দূরত্ব ও লকডাউন বাস্তবায়ন :
করোনা নিয়ন্ত্রণে অঘোষিত লকডাউন চলছে। সরকার মনে করছে করোনা নিয়ন্ত্রণে ছুটি ভালো ফল দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ছুটির মেয়াদ আরও কিছুদিন বাড়তে পারে। যা ৯ এপ্রিল পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর।

তিনি বলেন, লকডাউন বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ১৭টি টিম কাজ করছে। এর বাইরে চট্টগ্রাম জেলাসহ তিন পার্বত্য জেলায় মোট ৪৩টি টিম এখন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাঠে আছে। চট্টগ্রামে অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে জেলা প্রশাসনের ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট। আছেন থানার ওসিরাও।

করোনা রোগী ও চিকিৎসকদের যাতায়াত :
চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তদের আনা নেওয়ার জন্য ১০টি অ্যাম্বুলেন্স তৈরি রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও প্রয়োজনীয় লোকবলকে সুরক্ষা পিপিই সরবরাহ করা হবে। এছাড়া সিএমপির হটলাইনে (০১৪০০৪০০৪০০) ফোন করলে মহানগরে কর্মরত চিকিৎসকদের যাতায়াতের সুবিধা প্রদান করবে পুলিশ বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি মিয়া।

টেলিমেডিসিন সেবার পরামর্শ :
করোনা সংক্রমণ থেকে বাচতে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালেই রোগী ভর্তি একেবারেই কমে গেছে। জ্বর, সর্দি বা ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরাও হাসপাতালে আসছে না। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও উপজেলা হাসপাতালগুলো রোগীদের প্রাথমিকভাবে টেলিমেডিসিন সেবা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম বলেন, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু হয়েছে টেলিমেডিসিন সেবা। জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা উপসর্গের রোগীরা হাসপাতাল বা ডাক্তারের চেম্বারে যাবেন না। ঘরে থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন। টেলিমেডিসিন সেবার জন্য ০১৮১৮-৯৯২৬৫৭ ও ০১৯৪০-২৩৩০৭৯ নম্বর দুটি খোলা থাকবে। এই সেবার আওতায় ২৪ ঘণ্টা দুটি মোবাইল নম্বরে কল করে চিকিৎসা সংক্রান্ত সব পরামর্শ নিতে পারবেন সেবাপ্রার্থীরা।

জীবাণুনাশক ছিটানো :
করোনা প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, সেনাবাহিনী ও চট্টগ্রাম ওয়াসা জীবাণুনাশক ওষুধ ও পানি ছিটানোর কাজ করছে। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সড়কে ও নালায় জীবাণুনাশক ছিটানো হবে।

হাটহাজারীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় নিজস্ব উদ্যেগে এ কাজ শুরু করেছে। আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার সীদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন।

ডেঙ্গু সতর্কতা :
করোনা ঠেকাতে ব্যস্ত পুরো দেশ। এমন সময়ে মশকনিধন কার্যক্রমে ভাটা পড়লে ডেঙ্গুর প্রকোপ সামলানো দুরূহ হয়ে পড়বে। তাই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সতর্ক থাকা জরুরী। তবে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন, গত বছরের মতো এ বছরও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে এডিস মশা নিধন এবং এর জন্ম-বিস্তার রোধে দিনব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে গত বছর ঢাকার চেয়ে ব্যতিক্রম ছিল চট্টগ্রাম। এখানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেমন কম, তেমনি কম ছিল মৃতের সংখ্যাও। সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা লাখের ঘর ছাড়ালেও চট্টগ্রামে এ সংখ্যা ছিল মাত্র দেড় হাজার।

৯৯৯-এ জরুরি সেবা :
সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, করোনা ঝুঁকির কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তাই কয়েকটি থানার পুলিশ সদস্যরা মানুষের জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধ তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। সামাজিক দায়বদ্ধাতা থেকে বিষয়টিকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করার চেষ্টা করছি। পুলিশ সদস্যদের কয়েকজনের একটি টিম সবসময় এ কাজে নিয়োজিত থাকবে। এসময় তিনি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধসহ যেকোনো প্রয়োজনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিন পুলিশের হটলাইন নম্বরে (০১৪০০০৪০০৪০০) অথবা ৯৯৯ এ ফোন করার আহ্বান জানান।

শর্তসাপেক্ষে খাবার বিক্রী :
জনস্বার্থে শর্তসাপেক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর খাবার দোকান, বেকারি ও রেস্টুরেন্ট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শর্তগুলো হচ্ছে রেস্টুরেন্ট বা দোকানের ভেতর খাবার খাওয়া যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রেস্টুরেন্টে আসা-যাওয়া করতে হবে। খাবার সংগ্রহের সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়াতে হবে। রেস্টুরেন্ট বা খাবার দোকানকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার আড্ডা চলবে না। খাবার তৈরি থেকে বিক্রি পর্যন্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে। প্রত্যেক খাবারের দোকানে প্রবেশপথে হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা রাখতে হবে। খাবার পার্সেলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। এ সকল বিষয়ে নগরীর থানার ওসিদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে বলে জানান বলে জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমান।

দু:স্থদের খাদ্য সহায়তা :
করোনা সংক্রমণ রোধে ২৬মার্চ হতে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে গরিব, দিনমজুর, নিন্ম আয়ের শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ যোগাতে পারছে না।

তাই দিনমজুরদের সহায়তায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে জেলার ১৭ হাজার পরিবারকে চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়া সরকারি তথ্য সেবা নম্বর ৩৩৩-এ ফোন করলে যে কেউ জেলা প্রশাসন থেকে এ সহায়তা পাবেন।

এছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউনের ফলে বাড়িতে বন্দি থাকা খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষকে খাদ্য-শস্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। প্রতি পরিবারের জন্য ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আটা, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবণ সম্বলিত প্যাকেট বিতরণের জন্য জেলার ১৬টি থানা এলাকার অফিসার ইনচার্জ এর কাছে পাঠানো হয়েছে।