নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউনের চতুর্থ দিনে চট্টগ্রামে খুলতে শুরু করেছে খাবারের দোকানগুলো। কোনো কোনো দোকানের ভেতর খাওয়া-দাওয়াও চলছে।

তবে দোকানের ভেতর কোনো রকম খাবার খাওয়া যাবে না-এই শর্তে খাবারের দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। রোববার রাত ৯ টার দিকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমেও প্রেরণ করা হয় নগর পুলিশের পক্ষ থেকে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনগণের সুবিধার কথা চিন্তা করে চট্টগ্রাম মহানগরীর খাবার দোকান, বেকারী ও রেস্টুরেন্ট খোলা রাখা যাবে। এ মর্মে সকল থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জনাব মো. মাহাবুবর রহমান।

তবে এ বিষয়ে রেস্টুরেন্ট মালিকরা যাতে অত্যন্ত সাবধানতার সাথে খাবার বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করেন সে ব্যাপারে সকল থানার অফিসার-ইনচার্জকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয় দোকান মালিকদের বেঁধে দেওয়া হয়েছে কিছু শর্তও।

সেগুলো হলো-রেস্টুরেন্ট বা দোকানের ভিতর খাবার খাওয়া যাবেনা। শুধু খাবার সংগ্রহ করে বাসায় পার্সেল করে নেয়া যাবে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রেস্টুরেন্টে আসা-যাওয়া করতে হবে। খাবার সংগ্রহের সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়াতে হবে। রেস্টুরেন্ট বা খাবার দোকান কে কেন্দ্র করে কোনরূপ আড্ডা চলবে না। খাবার তৈরি থেকে বিক্রি পর্যন্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে। প্রত্যেক খাবারের দোকানে প্রবেশ পথে হ্যান্ডওয়াশ বা সেনিটাইজেশন ব্যবস্থা রাখতে হবে। খাবার পার্সেলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২৫ মার্চ সকাল থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে পুলিশ ও সেনাবাহীনির যৌথ দল। সেনাবাহিনীর ১৭ টিম কাজ করছে নগরীতে। এর বাইরে চট্টগ্রাম জেলাসহ তিন পার্বত্য জেলায় মোট ৪৩টি টিম করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাঠে আছে।

চট্টগ্রামে অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে জেলা প্রশাসনের ৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট। আছেন স্ব স্ব থানার ওসিরাও। তারা ৫-৭ জনের বেশি লোক যাতে জড়ো না হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া লোকজন যাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে চলাফেরা করে সেটা নিশ্চিত করছেন।

এই লকডাউনে নিত্যপণ্যের বাজার ও ওষুধ নিয়ে নগরবাসীর কাছেও যাচ্ছেন পুলিশের টিম। চালু করেছে ডোর টু ডোর শপ সার্ভিস। ফলে এখনো পর্যন্ত করোনামুক্ত চট্টগ্রাম। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত সন্দেহজনক ৩০ জনের শরীরের নমুনা পরীক্ষা করেও কোনো করোনা শনাক্ত না হওয়ার সুখবর দেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি মিয়া।