নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীনা কিটে ভুল ফল আসা, বিভিন্ন দেশ থেকে চীনা কিট ফেরত যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশেও অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশে যেসব কিট চীন থেকে পাঠানো হয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে কার্যকর হবে কি না। এসব কিটে গত ২৪ ঘন্টায় দেশে কোনো করোনা আক্রান্ত রোগীও শনাক্ত হয়নি। পরে ঢাকায় চীন দূতাবাস থেকে এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

চীনের ঢাকা মিশনের তৃতীয় সচিব ইয়ান-এর পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৪০ হাজার ৫০০ কিট সরবরাহ করেছে চীন। সম্প্রতি স্পেনে কিছু টেস্ট কিট ভুল ফলাফল দিচ্ছে—এমন খবর আমাদের নজরে এসেছে। এতে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে সেসব টেস্ট কিট স্পেনে চীন সরকারের অনুদান নয়, বরং দেশটি চীনের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কিনেছে।

এ বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন উল্লেখ করে ওই বার্তায় বলা হয়, শেনজেন বায়োইজি বায়োটেকনোলজি নামের ওই প্রতিষ্ঠান চীনের ওষুধ সরঞ্জাম বিক্রয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল মেডিক্যাল প্রোডাক্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনএমপিএ) অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। তাছাড়া দেশের বাইরে ওষুধ সরঞ্জাম বিক্রির জন্য এ প্রতিষ্ঠানটি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রও নেয়নি। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশে যেসব টেস্ট কিট সরবরাহ করেছে, তার মধ্যে বায়োইজির তৈরি কোনো পণ্য নেই। এসব চিকিৎসা পণ্য চীনের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকেই কিনে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, এসব টেস্ট কিট সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে যা ব্যবহারকারীকে কঠোরভাবে মানতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার সময় পেশাদার টেকনিশিয়ানদের দ্বারা টেস্ট কিটের সঙ্গে সরবরাহ নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এতে আরও জানানো হয়, কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধে চীন সবসময় বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকবে। চীন তার সামর্থ্য অনুযায়ী বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাবে।