নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঘরে থাকা মানুষদের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) শুরু করেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান ডোর টু ডোর শপ। সিএমপির হট লাইন ০১৪০০ ৪০০ ৪০০ নাম্বারে অথবা কোতোয়ালিবাসী কোতোয়ালী থানার নাম্বার ৬১৯৯২২ নাম্বারে ফোন করলেই পৌছে যাবে দোকান।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন পিপিএম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিও থেকে ভ্রাম্যমাণ দোকান চালু করার উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ওসি মহসিনকে মাইক হাতে ঘোষণা করতে দেখা যায়, আপনারা ঘরে থাকুন, দোকানই যাবে আপনার ঘরে। ভুল শুনেননি, বাজার করতে আপনাদের আর দোকানে যেতে হবে না। দোকানই যাবে আপনার ঘরে।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ১০ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যেতে। গত কয়েকদিন ধরে মানুষ অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন তারা পড়ছেন জেরার মুখে। মানুষের ঘর থেকে বের হওয়া রোধ করতে ভিন্ন এই উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন এ প্রসঙ্গে বলেন, নগররবাসীকে ঘরে থাকতে অনুরোধ করেছিলাম। তারা অনুরোধ রেখেছেন। কথা দিয়েছিলাম প্রয়োজনে ঘরের বাজারও আমরা দিয়ে আসব। সেই কথাও রেখেছি। এখন কমিশনার স্যারের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। যারা সার্বক্ষণিক এ কাজটি তদারকি করবেন। এ জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নগরবাসী নিত্য প্রয়োজনীয় যেকোনো দ্রব্যের জন্য ফোন করলে পুলিশ তার বাসায় পণ্য পৌঁছে দেবে।

তিনি আরো বলেন, আপাতত আমরা মানুষের চাহিদা অনুসারে কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। চাহিদা বেশি হলে, প্রয়োজন বুঝে গাড়িতেই দোকান বসানো হবে। ভাসমান সেই দোকান থেকে নগরবাসী ন্যায্য দামে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।

সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, করোনা ঝুঁকির কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। বলা যায় তারা এক প্রকার গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। তাই কয়েকটি থানার পুলিশ সদস্যরা মানুষের জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধ তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। সামাজিক দায়বদ্ধাতা থেকে বিষয়টিকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করার চেষ্টা করছি। এখন থেকে পুলিশ সদস্যদের কয়েকজনের একটি টিম সবসময় এ কাজে নিয়োজিত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, করোনা সামলাতে বিজ্ঞানীরা এই মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তাতে মানুষ চাইলেই নিত্য প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। এ কারণে নগরের ১৬টি থানাতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৮টি থানা তাদের কাজ শুরু করেছে।