নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে জ্বর-সর্দি, কাশির রোগী আসলেও তাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ করোনা শনাক্তের কোন কীট এখনো পর্যন্ত আসেনি চট্টগ্রামে। ফলে চট্টগ্রামে এখনো পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত কোন রোগী নেই। এ কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি মিয়া।

তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস শনাক্তের কিট এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রামে পাঠানো হয়নি। সীতাকুন্ডের বিশেষায়িত বিআইটিআইডি হাসপাতাল থেকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের একজন ডাক্তার এবং দুইজন টেকনিশিয়ানকে প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিলো। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

বিআইটিআইডির সহযোগী অধ্যাপক ডা, মামুনুর রশিদ জানান, বিআইটিআইডিতে সন্দেহভাজন করোনা রোগিদের পরীক্ষা করা হচ্ছে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় সুদূর কক্সবাজারসহ বৃহৎ চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সামান্য জ্বর-সর্দি আক্রান্ত রোগিরাও করোনা আক্রান্ত কিনা পরীক্ষা করতে ছুটে আসছেন।

কিন্তু আমাদের কাছে করোনা পরীক্ষার কোন কীট না আসায় আমরা সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাচ্ছি। তারপর কয়েকদিনের মধ্যে সেখান থেকে রিপোর্ট আসলে আমরা জানাচ্ছি যে তাদের কি হয়েছিলো। এক কথায় এই রিপোর্টের জন্য রোগিদের এবং ডাক্তারদের কয়েকদিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। আমরা তাৎক্ষনিক কোন রিপোর্ট দিতে পারছি না। যদি করোনা পরীক্ষার কীট পাওয়া যেত তাহলে ৪-৫ ঘন্টার মধ্যেই পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া যেত।

ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, তবে তাৎক্ষনিক রিপোর্ট দিতে না পারলেও আমরা রোগিদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে চেষ্টা করছি। এখানে আসা রোগিদের পাশাপাশি, চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতাল অথবা অন্য স্থান থেকেও কেউ আমাদেরকে খবর দিলে আমরা সেখানে গিয়েও রোগির নমুনা সংগ্রহ করছি।

তবে এ কয়েকদিনে আমরা মোট ৭ জন রোগির নমুনা পাঠিয়েছি। এর মধ্যে একটি ছাড়া অন্য ৬ টির রিপোর্ট ইতিমধ্যে আমরা হাতে পেয়েছি। এসব রোগিদের কেউই করোনা আক্রান্ত নয় বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। ফলে তাদেরকে স্বাভাবিক রোগের ওষুধ প্রদান করে চিকিৎসা দেওয়া হবে। এদিকে ডাক্তাররা চেষ্টা করলেও দূর দুরান্ত থেকে এখানে এসেও তাৎক্ষনিক পরীক্ষার সুযোগ না পেয়ে হতাশও হচ্ছেন অনেকে।

সূত্র জানায়, বৃহত্তর চট্টগ্রামের রোগীদের করোনার ভাইরাস পরীক্ষার জন্য স্থাপিত একমাত্র হাসপাতাল সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)। দেশে করোনা ভাইরাস আতংক ছড়িয়ে পড়ার পর রোগিদের শুশ্রুষার জন্য বিশেষায়িত এই হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসোলেশন বিশিষ্ট ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়।

হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে একটি টিমকে করোনা চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই টিমের ৩ সদস্য ইতিমধ্যে ঢাকায় আইইডিসিআর এ করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়ে ট্রেনিংও সম্পন্ন করে এসেছেন। কিন্তু এরপর এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো করোনা পরীক্ষার কোন কিট আসেনি। ফলে করোনা পরীক্ষার ট্রেনিং নিয়েও সন্দেহভাজন রোগিদের জন্য কিছুই করতে পারছেন না তারা।